বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
‘আজি এ অবেলায় মনে পড়ে তোমায়হারানো দিনগুলি বারে বারে কাঁদায়।তুমি ছাড়া এজীবন শূন্য মনে হয়ভালো লাগা অনুভ‚তি আঁধারে ডুব রয়।’
- ক)(1)
‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির উদাসীনতার কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের মিল রয়েছে কীভাবে? উপস্থাপন কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বর্ণিত দুঃখবোধের অনুভূতি এক সূত্রে গাঁথা।”- যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ ফুলের বন্দনা বা ফুলের অর্ঘ্য নিবেদন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির উদাসীনতার প্রধান কারণ হলো তাঁর স্বামী ও সাহিত্যসাধনার প্রধান অনুপ্রেরণাদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুজনিত গভীর শোক। প্রিয়জনের বিয়োগবেদনা কবির হৃদয়কে এমন এক শূন্যতায় ঢেকে রেখেছে যে, প্রকৃতির অপরূপ বসন্তের আগমনও তাঁর হৃদয়ে কোনো আনন্দের স্পর্শ বা প্রেরণা জাগাতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের প্রিয়জন হারানোর শোকাবহ অধ্যায়ের গভীর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে অতীত দিনের স্মৃতিচারণা, প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে জীবনের শূন্যতাবোধ এবং সকল অনুভূতি আঁধারে হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে।
বাস্তব জীবনে কবি সুফিয়া কামালের প্রথম স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন ছিলেন তাঁর সাহিত্যচর্চার পরম উৎসাহদাতা ও জীবনসঙ্গী। ১৯৩২ সালে তাঁর অকালমৃত্যু কবির জীবনে এক গভীর শূন্যতা ও অন্ধকারের সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের ভাবটির মতোই কবির হৃদয়ে প্রিয়তমের হারানো স্মৃতি বারবার বেদনার জন্ম দিত, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যসৃষ্টিকে স্তব্ধ করে তুলেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বর্ণিত দুঃখবোধের অনুভূতি এক সূত্রে গাঁথা।”— মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
উদ্দীপকে হারানো অতীতের জন্য হাহাকার এবং প্রিয়জনহীন জীবনের অর্থহীনতা ও অন্তহীন বিষাদ ফুটে উঠেছে। প্রিয়জনের অভাবে কবির অনুভূতিগুলো আলোহীন এক আঁধারে নিমজ্জিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে, ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল বসন্তের অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা, পুষ্পের সুবাস ও উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেও নিজেকে জড়িয়ে নিতে পারেননি। ভক্ত কবির বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কবি উদাসীন থাকেন, কারণ তাঁর মানসপটে শুধুই প্রিয়তমের স্মৃতি ভেসে ওঠে। প্রিয়জনের চিরবিদায়ে কবির মন বিষাদ ও রিক্ততার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে। উদ্দীপকের “তুমি ছাড়া এজীবন শূন্য মনে হয়” চরণটির মতোই কবিতায় কবির হৃদয়বেদনা তীব্রভাবে মূর্ত হয়েছে।
উভয় রচনার মূল সুরই হলো প্রিয়জন হারানোর অতল শূন্যতা ও গভীর শোকগাথা। বাহ্যিক আনন্দের মাঝেও অন্তরের সেই বিষাদময় অনুভূতি উদ্দীপক ও কবিতাকে অভিন্ন বেদনার সূত্রে গেঁথেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও