যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

আসাদ তার বন্ধু আনিছকে বলল, "উট হয় মরুভূমির জাহাজ।" আসাদের কথা শুনে আনিছ গ্রাম সম্পর্কে বলল, "কোনো গ্রাম নয় - অসুন্দর।"

  1. ক)

    যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আসাদের বক্তব্যে নির্দেশিত যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে আসাদ ও আনিছের বক্তব্যে নির্দেশিত যৌক্তিক সংজ্ঞার তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা বলতে বোঝায় যেসব পদের প্রকৃতিগত কারণে তাদের যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব হয় না। যুক্তিবিদ্যায় কেবলমাত্র সেসব পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় যাদের সুস্পষ্ট আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ (জাত্যর্থ) থাকে। পরম জাতি (যেমন- দ্রব্য), বিশিষ্ট গুণবাচক পদ (যেমন- লালত্ব, মিষ্টতা), একক বা নামবাচক পদ, এবং মৌলিক অনুভূতির কোনো যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। এটিই যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আসাদের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Fallacy of metaphorical definition) নির্দেশিত হয়েছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সে পদটি অপেক্ষা সংজ্ঞাটি সহজ ও স্পষ্ট হতে হবে; সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু আসাদ উটের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "উট হয় মরুভূমির জাহাজ।"

    এখানে 'মরুভূমির জাহাজ' কথাটি একটি রূপক বা উপমা। উটের জাত্যর্থ (যেমন— প্রাণীত্ব ও বিশেষ গুণাবলি) উল্লেখ না করে কেবল জাহাজ রূপকের মাধ্যমে ধারণাটি জটিল ও অস্পষ্ট করা হয়েছে। সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য পদকে সহজ ও স্পষ্ট করা, কিন্তু রূপক ব্যবহারের ফলে তা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসাদের বক্তব্যটি একটি ত্রুটিপূর্ণ বা অনুপপত্তিমূলক সংজ্ঞা, যা রূপক সংজ্ঞা নামে পরিচিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আসাদের বক্তব্য "উট হয় মরুভূমির জাহাজ" রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তিকে নির্দেশ করে এবং আনিছের বক্তব্য "কোনো গ্রাম নয় অসুন্দর" নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তিকে নির্দেশ করে। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. নিয়ম লঙ্ঘনের দিক: যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী সংজ্ঞায় রূপক ভাষা বর্জন করতে হয়। আসাদ এ নিয়ম অমান্য করে 'মরুভূমির জাহাজ' রূপক প্রয়োগ করায় 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে। অপরদিকে, সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী যেখানে সদর্থকভাবে সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব সেখানে নঞর্থক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। আনিছ গ্রামকে সদর্থকভাবে সংজ্ঞায়িত না করে "নয় অসুন্দর" বলে নঞর্থক বা নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করায় 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে।

    ২. উদ্দেশ্য ও স্পষ্টতা: সংজ্ঞার কাজ কোনো পদের আসল অর্থ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। আসাদের বক্তব্যটি রূপক হওয়ায় উটের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ না পেয়ে কাব্যিকতা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে আনিছের বক্তব্যটিতে গ্রাম প্রকৃতপক্ষে কী তা না বলে, গ্রাম কী নয় (অসুন্দর নয়) তা বলা হয়েছে, যা মূল বস্তুর ধারণা দেয় না।

    ৩. জ্ঞানগত ত্রুটি: আসাদের সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতা তৈরি হয়েছে, আর আনিছের সংজ্ঞায় পদের ইতিবাচক স্বরূপ ঢাকা পড়ে কেবল নিষেধের মাধ্যমে পদটিকে ব্যক্ত করা হয়েছে।

    পরিশেষে, উভয় বক্তব্যই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ত্রুটিপূর্ণ এবং এদের কোনোটিই সঠিক বা যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন