বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
সারাংশ/ভাব-সম্প্রসারণ
10.1.
সারাংশ লেখ :
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় যা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না। যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।
10.2.
ভাব-সম্প্রসারণ কর :
প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তারই।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১০.১. সারাংশ:
মানব ধর্মের মূল সুর হলো পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা। প্রকৃত ধর্মচেতনায় বিদ্বেষ বা সংকীর্ণতার কোনো স্থান নেই। নিজ ধর্মের সত্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারলে অন্য ধর্মের প্রতি কোনো প্রকার অশ্রদ্ধা বা হিংসা থাকে না; বরং অন্তরের আত্মিক ঐক্যই মানবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে।
১০.২. ভাব-সম্প্রসারণ:
মূলভাব: আত্মত্যাগ এবং জীবন বাজি রাখার সাহসিকতার ওপরই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা ও বেঁচে থাকার অধিকার নির্ভর করে। সংগ্রামহীন ও কাপুরুষোচিত জীবন কেবল অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে, কিন্তু মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার গৌরব অর্জন করতে পারে না।
সম্প্রসারিত ভাব: মানবজীবন কেবল শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া আর জড়বৎ বেঁচে থাকার নাম নয়। জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রয়োজনে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার মানসিকতার মধ্যে। পৃথিবীতে যেসব জাতি বা ব্যক্তি আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই কঠোর সংগ্রাম ও আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে, অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রাখতে যারা হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করতে পারে, তারাই কেবল মুক্ত বাতাসে মাথা তুলে বাঁচার গৌরব দাবি করতে পারে। পক্ষান্তরে, যারা মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে আপস করে বা অন্যায়কে মেনে নেয়, তারা বেঁচে থেকেও এক প্রকার মৃত। তাদের অস্তিত্ব পশুর মতো টিকে থাকার সমতুল্য, সেখানে কোনো মানবিক মর্যাদা নেই। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির ইতিহাস রক্ত ও চরম ত্যাগের ইতিহাস। লক্ষ শহিদের আত্মদানের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারী। সুতরাং, জীবনকে স্বার্থক ও অক্ষয় করতে হলে প্রয়োজনে চরম আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হয়।
মন্তব্য: আত্মবিসর্জনের শক্তিই জীবনের মূল চালিকাশক্তি। যারা ন্যায়ের জন্য মরতে জানে, তারাই যুগে যুগে সমাজে ও ইতিহাসে চিরন্তন বেঁচে থাকার অধিকার অর্জন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও