অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে খাদ্য, বাংলাদেশে খাদ্য, যন্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ যোগাযোগ ও অবকাঠামো ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা পুরণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ যা পরোক্ষভাবে সরকারি খাত প্রধান ভূমিকা পালন করে। এসব ক্ষেত্রে NGO গুলো অত্যন্ত সীমিত ভূমিকা পালন করে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করলেও অধিকাংশ NGO-র মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মুনাফা করা। NGO গুলোর ঋণের সুদের হারও অনেক বেশি। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে চললে, মতবিরোধ পরিহার করলে এবং ব্যক্তি স্বার্থের বদলে সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনা করলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার করতে পারত। তবে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি খাতই আমাদের দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পারত।
- ক)(1)
সংগঠন কী?
- খ)(2)
'উদ্যোক্তাই সংগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি'- ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
'বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে কীভাবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ এগিয়ে যেতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের উপাদানসমূহ—ভূমি, শ্রম ও পুঁজিকে একত্রিত করে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও উৎপাদনের ঝুঁকি গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে সংগঠন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ উৎপাদনের উপাদানগুলোকে একত্রিত করে ঝুঁকি নিয়ে কোনো ব্যবসায় বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ও পরিচালনা করেন, তাকে উদ্যোক্তা বলে। উদ্যোক্তার সঠিক সিদ্ধান্ত, দূরদর্শিতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার ওপরই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সফলতা নির্ভর করে। উদ্যোক্তা ছাড়া উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানগুলো অলস ও অকার্যকর পড়ে থাকে। তাই উদ্যোক্তাকে সংগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, বাংলাদেশের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারি খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
একটি উন্নয়নশীল দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ভারী শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণ বেসরকারি বা এনজিও খাতের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়; কারণ এগুলোতে প্রচুর পুঁজি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন হয়, যেখানে মুনাফার চেয়ে জনকল্যাণই মুখ্য। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, এনজিও বা সমবায়ের ভূমিকা নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তুলতে সরকারি খাতই মূল দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং, সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত রাখতে সরকারি খাতের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি উন্নয়নশীল দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি খাত, বেসরকারি খাত, এনজিও এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত বা যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, সরকারি খাতের দুর্নীতি ও সীমাবদ্ধতা, এনজিওগুলোর উচ্চ সুদের হার এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মনীতি না মানা ও পারস্পরিক মতবিরোধ উন্নয়নের গতিকে মন্থর করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হলো যৌথ উদ্যোগ:
১. সরকারি খাত বৃহৎ অবকাঠামো (যেমন- বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, আইন-শৃঙ্খলা) তৈরি করবে এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।
২. এনজিওগুলো কেবল ঋণ বা মুনাফার পেছনে না ছুটে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা, সচেতনতা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে।
৩. সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমষ্টিগত স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে পুঁজি গঠনে সহায়তা করবে।এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি তাদের নিজ নিজ সীমাবদ্ধতা পরিহার করে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, তবে সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশ একটি স্বনির্ভর ও উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও