অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশে খাদ্য ঘাটতি, উচ্চ জন্ম ও মৃত্যুহার, অধিক বেকারত্নসহ ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে জন্মহার সফলভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও নারী উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে এই অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব।

  1. ক)

    নমুনা জরিপ কী?

    (1)
  2. খ)

    নারীর ক্ষমতায়নের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক কেমন তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনসংখ্যার কোন তত্ত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর পারস্পরিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো সমগ্রক (Population) থেকে বৈজ্ঞানিক নিয়মে প্রতিনিধিত্বশীল কিছু অংশ বা নমুনা নির্বাচন করে তার ওপর ভিত্তি করে যে অনুসন্ধান বা জরিপ চালানো হয়, তাকে নমুনা জরিপ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নারীর ক্ষমতায়নের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে তাদের শিক্ষা, সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নারীরা পরিবার পরিকল্পনায় সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে এবং বাল্যবিবাহ রোধ পায়। শিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীরা দেরিতে বিবাহ করেন এবং অধিক সন্তান গ্রহণের চেয়ে সন্তানের গুণগত মানোন্নয়নে মনোযোগী হন। ফলে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা হ্রাস পায় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে টমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Malthusian Theory of Population)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    ম্যালথাস তাঁর তত্ত্বে উল্লেখ করেন, একটি দেশের জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) বৃদ্ধি পায়, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। ফলে একসময় জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় এবং তীব্র খাদ্য ঘাটতি ও অপুষ্টির সৃষ্টি হয়। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে সমাজে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি 'প্রাকৃতিক নিরোধ' (Positive Checks) দেখা দেয়, যার ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে আবার ভারসাম্য ফিরে আসে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশে উচ্চ জনসংখ্যা, খাদ্য ঘাটতি, উচ্চ জন্ম-মৃত্যুহার ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ম্যালথাসীয় প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি ম্যালথাসের নির্দেশিত নিবারণমূলক ব্যবস্থা (যেমন: পরিবার পরিকল্পনা ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ) গ্রহণের কথাও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকের পরিস্থিতিটি স্পষ্টভাবে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং নারী উন্নয়নের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলো একটি অপরটির পরিপূরক এবং পারস্পরিকভাবে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

    ১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল স্তম্ভ। শুধু শিক্ষা দিলে লাভ হবে না যদি নাগরিক শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম না থাকে। পক্ষান্তরে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি যদি উপযুক্ত শিক্ষা ও কারিগরি জ্ঞান না পায়, তবে সে অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারে না। তাই শিক্ষার সঠিক ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য অপরিহার্য।

    ২. আবাসন ও স্বাস্থ্য: মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে রোগব্যাধি কমে যায়, যা জনগণের কর্মদক্ষতা বজায় রাখতে সরাসরি সহায়তা করে।

    ৩. নারী উন্নয়ন ও পরিবার নিয়ন্ত্রণ: দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি সফল হয়। সচেতন নারী নিজের ও সন্তানের সুস্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারেন এবং পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে অবদান রাখেন।

    ৪. সামগ্রিক প্রভাব: শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ আবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়ন একত্রে মিলিত হয়ে মানব মূলধন (Human Capital) তৈরি করে, যা দেশকে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

    অতএব, উদ্দীপকের কর্মসূচিগুলোর কোনোটিই এককভাবে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না; মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে কর্মসূচিগুলোর পারস্পরিক ও সমন্বিত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন