অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জাতীয় বেতন স্কেল পরিবর্তনে 'A' দেশের ২০২০ সালের ভোক্তার মূল্যসূচক হলো ১১৮। এই অবস্থায় দেশটিকে ভোক্তা, ঋণদাতা ও শ্রমিক শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেল। অন্যদিকে ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, ঋণগ্রহীতা ও করদাতা লাভবান হলো। উল্লেখ্য, 'A' দেশে ২০১৫ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১০০।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
“অর্থের যোগানের সাথে মুদ্রাস্ফীতির সম্পর্ক সরাসরি"—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও লাভবান হবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সময়ের ব্যবধানে বা ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে কোনো নির্দিষ্ট চলক বা চলক সমষ্টির মানে যে আপেক্ষিক পরিবর্তন ঘটে, তা পরিমাপের গাণিতিক ও সংখ্যাত্মক পদ্ধতিকে সূচক সংখ্যা (Index Number) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের যোগানের সাথে মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান।
অর্থনীতিতে অন্যান্য বিষয় স্থির থেকে যদি অর্থের যোগান বৃদ্ধি পায়, তবে জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সামগ্রিক যোগান বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে দ্রব্যের দামস্তর বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে। সুতরাং, অর্থের যোগান বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থের যোগান কমলে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক হতে 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করা হলো:
আমরা জানি,
মুদ্রাস্ফীতির হার (Inflation Rate) =
এখানে,
ভিত্তি বছর ২০১৫ সালের ভোক্তার মূল্যসূচক () = ১০০
চলতি বছর ২০২০ সালের ভোক্তার মূল্যসূচক () = ১১৮অতএব, মুদ্রাস্ফীতির হার =
=
= ১৮%সুতরাং, 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার হলো ১৮%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে বিভিন্ন শ্রেণি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা লাভবান হয় তা নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ:
১. ভোক্তা ও শ্রমিক শ্রেণি: মুদ্রাস্ফীতির ফলে দ্রব্যমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শ্রমিকদের আর্থিক মজুরি স্থির থাকে বা মূল্যবৃদ্ধির সমানুপাতে বাড়ে না। ফলে প্রকৃত আয় কমে গিয়ে ভোক্তা ও সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. ঋণদাতা: ঋণদাতার দেওয়া অর্থের মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা ঋণের মেয়াদ শেষে মুদ্রাস্ফীতির কারণে কমে যায়। ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেলেও প্রকৃত মূল্যের দিক থেকে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।লাভবান ব্যক্তিবর্গ:
১. ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি: মুদ্রাস্ফীতির সময় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির হারের চেয়ে পণ্যের বিক্রয়মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যবসায়ীদের মুনাফার পরিমাণ বহুলাংশে বাড়ে। এছাড়া মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চোরাকারবারিরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে।
২. ঋণগ্রহীতা: পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মুদ্রা ফেরত দিতে হয়, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পাওয়ায় ঋণগ্রহীতাকে আগের চেয়ে কম ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ পরিশোধ করতে হয়, ফলে তারা লাভবান হয়।
৩. করদাতা: করদাতারা নির্দিষ্ট পরিমাণ কর আগের অঙ্কেই পরিশোধ করে, কিন্তু তাদের আয়ের মুদ্রাগত মূল্য বৃদ্ধির কারণে করের প্রকৃত বোঝা তুলনামূলকভাবে হালকা মনে হয়, যার ফলে তারা লাভবান হয়।সুতরাং, উদ্দীপকে আলোচিত মুদ্রাস্ফীতির কারণে সমাজে আয় পুনর্বণ্টনের এই বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও