সাহিত্য পাঠ • সেই অস্ত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

সকল মহামানবই চেয়েছেন হিংসা-দ্বেষ ও হানাহানিমুক্ত একটি বাসযোগ্য নির্মল পৃথিবী। হিংসা আর স্বার্থপরতার বিষবাষ্পে ছেয়ে গেছে বর্তমান বিশ্ব। ভালোবাসাহীন, স্বার্থান্ধ ও মানবিকতাশূন্য এমন পৃথিবীর কথা মহামানবেরা চিন্তাও করেননি। সর্বত্র বিরাজমান সকল অশুভ শক্তির শিকড়কে উপড়ে ফেলে ভালোবাসা ও মানবিকতার ছায়া ছড়িয়ে দিতে পারলেই বাসযোগ্য একটি নির্মল পৃথিবীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

  1. ক)

    'সেই অস্ত্র' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    "নক্ষত্রখচিত আকাশ থেকে আগুন ঝরবে না"- বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মহামানবদের চাওয়ার সাথে 'সেই অস্ত্র' কবিতার কবির চাওয়ার সাদৃশ্য তুলে ধরো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মূলভাব 'সেই অস্ত্র' কবিতার মূলভাবকে অনেকাংশেই ধারণ করতে পেরেছে।"- মন্তব্যটির যাথার্থ্য নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সেই অস্ত্র' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত (বা মুক্তক অক্ষরবৃত্ত / গদ্যছন্দসদৃশ আধুনিক অক্ষরবৃত্ত) ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি যুদ্ধাস্ত্রের বিধ্বংসী রূপ দূর করে এক শান্তিময় ও নিরাপদ পৃথিবীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    আধুনিক যুদ্ধে আকাশ থেকে ফেলা পারমাণবিক বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র নক্ষত্রখচিত আকাশের বুক চিরে অগ্নিকুণ্ডের মতো নেমে আসে এবং মানবজাতি ও সভ্যতাকে নিমেষেই ধ্বংস করে দেয়। ভালোবাসার মতো মানবকল্যাণকামী অস্ত্র উত্তোলিত হলে আকাশ থেকে মরণাস্ত্রের এমন অগ্নিবৃষ্টি আর ঝরবে না এবং মানবজাতি যুদ্ধ ও ধ্বংসের আতঙ্ক থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে—কবি মূলত এই আশাবাদই ব্যক্ত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মহামানবদের চাওয়ার সাথে 'সেই অস্ত্র' কবিতার কবির চাওয়ার মূল সাদৃশ্য হলো—হিংসা, হানাহানি ও অশুভ শক্তিকে দূর করে প্রেম-ভালোবাসা ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা।

    'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি আহসান হাবীব এমন এক ভালোবাসারূপ অস্ত্রের প্রত্যাশা করেছেন, যা পৃথিবীতে বিরাজমান যুদ্ধ, হানাহানি, লোভ ও ধ্বংসযজ্ঞকে নির্মূল করতে পারে। সেই প্রেমময় মানবিক শক্তির স্পর্শে মানুষের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষের বিষবাষ্প দূর হবে এবং সমগ্র মানবজাতি ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হবে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, সকল মহামানব হিংসা-দ্বেষ ও হানাহানিমুক্ত একটি নির্মল পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁরা চেয়েছেন স্বার্থপরতা ও অশুভ শক্তির মূলোৎপাটন করে ভালোবাসা ও মানবিকতার বিস্তার ঘটাতে। কবি আহসান হাবীব এবং উদ্দীপকের মহামানবদের এই শান্তিকামী ও ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূলভাব 'সেই অস্ত্র' কবিতার হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত, শান্তিময় ও মানবিক পৃথিবী গড়ার মূল সুরকে ধারণ করায় মন্তব্যটি যথার্থ।

    'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি যুদ্ধাস্ত্রের বিপরীতে ভালোবাসার মানবিক শক্তিকে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আধুনিক স্বার্থপরতা ও যুদ্ধোন্মাদনার করালগ্রাস থেকে মানবসমাজ ও সভ্যতাকে বাঁচাতে ভালোবাসাই একমাত্র রক্ষাকবচ। ভালোবাসার অস্ত্র প্রয়োগেই মানুষের অহংকার, বিদ্বেষ ও ধ্বংসপ্রবৃত্তি বিলুপ্ত হয়ে একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী তৈরি হতে পারে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মহামানবরা স্বার্থান্ধতা, হিংসা ও হানাহানিমুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনের স্বপ্ন দেখেছেন। বর্তমান পৃথিবীর অশুভ শক্তিকে উপড়ে ফেলে ভালোবাসা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দিয়েই কেবল সেই সুন্দর ও নির্মল পৃথিবীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

    কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ের মূল লক্ষ্যই হলো ধ্বংসাত্মক প্রবণতা পরিহার করে প্রেম ও মানবিকতার জয়গান গাওয়া। কবি যে অস্ত্রকে কামনা করেছেন তা উদ্দীপকের বর্ণিত ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি। সুতরাং, উদ্দীপকের মূলভাব 'সেই অস্ত্র' কবিতার মর্মবাণীকে যথার্থভাবেই প্রতিফলিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন