ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
প্রেক্ষাপট-১: আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মহানবি (স.) এর সাথে আন্তরিকভাবে চলাফেরা করে উহুদ যুদ্ধেও যায়। সে মহানবি (স.) কে যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা দিয়েও যুদ্ধ শুরুর পূর্বেই কিছু লোক নিয়ে মদিনায় ফিরে আসে। প্রেক্ষাপট-২: জাহেদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বাবা জনৈক সাধকের কাছে গিয়ে তার পা ধরে লুটিয়ে পড়ে বলে, “আপনিই একমাত্র আমার সন্তানকে সুস্থ করে দিতে পারেন।”
- ক)(1)
জাহান্নাম কাকে বলে?
- খ)(2)
ইসলামি জীবনদর্শনে আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য কেন?
- গ)(3)
প্রেক্ষাপট-১ এ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রেক্ষাপট-২ এ জাহেদ এর পিতার আচরণটি কতটুকু যৌক্তিক? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জাহান্নাম হলো আখিরাতে কাফির, মুশরিক, মুনাফিক ও অবাধ্য পাপীদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির স্থান।
- খ)
আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের একটি অপরিহার্য অংশ। এই বিশ্বাস মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হবে এবং আল্লাহর সামনে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। ফলে মানুষ অন্যায় থেকে বিরত থাকে এবং সৎকাজে উদ্বুদ্ধ হয়। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকলে মানুষের নৈতিকতা ও জবাবদিহির চেতনা থাকে না। তাই ইসলামি জীবনদর্শনে আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
- গ)
প্রেক্ষাপট-১ এ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের আচরণে নিফাক (মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
মুখে ইমানের দাবি করে অন্তরে অবিশ্বাস লুকিয়ে রাখাকে নিফাক বলে। আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মহানবি (স.) এর সাথে আন্তরিকতার ভান করেছে এবং উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও যুদ্ধের পূর্বেই কিছু লোক নিয়ে মদিনায় ফিরে আসে। এতে মুসলিম বাহিনী দুর্বল হয়েছে। এটি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কপটতার প্রমাণ।
- ঘ)
প্রেক্ষাপট-২ এ জাহেদের পিতা সাধকের পা ধরে লুটিয়ে পড়ে বলেছেন, আপনিই একমাত্র আমার সন্তানকে সুস্থ করতে পারেন। তাঁর এই আচরণ শিরক, তাই তা যৌক্তিক নয়।
১. রোগমুক্তি দান করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েজ, কিন্তু সুস্থতা দানকারী হিসেবে মানুষকে বিশ্বাস করা আল্লাহর ক্ষমতায় অন্যকে শরিক করা।
২. মানুষের সামনে লুটিয়ে পড়া ও চরম বিনয় প্রকাশ আল্লাহর ইবাদতের মতো আচরণ, যা অন্য কারও জন্য বৈধ নয়।
৩. শিরক তওবা ছাড়া ক্ষমা হয় না এবং এতে ইমান ও সব আমল বিনষ্ট হয়।সুতরাং, জাহেদের পিতার উচিত ছিল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে এবং একমাত্র আল্লাহর কাছে দোয়া করে সন্তানের সুস্থতা কামনা করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও