যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

বাবা বাজার থেকে এক ঝুড়ি আম কিনে আনলেন। ছেলে অমল বলল, বাবা আমগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। মেয়ে অর্চনা বলল, কিন্তু কিছু কিছু আম ছোট। বাবা বললেন, তোমরা একজন গুণের কথা বলেছ, আর একজন পরিমাণের কথাবলেছ। গুণ ও পরিমাণ একত্রে বর্ণনা করোনি।

  1. ক)

    যুক্তিবাক্য কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবাক্য ও অবধারণের মধ্যে পার্থক্য আছে কি?

    (2)
  3. গ)

    অর্চনার বক্তব্যে যুক্তিবাক্যের যে শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ হয়েছে, তা তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবার বক্তব্য তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের বর্ণনা বা স্বীকৃতি-অস্বীকৃতিমূলক বিবৃতিকে যুক্তিবাক্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, যুক্তিবাক্য ও অবধারণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অবধারণ হলো দুটি ধারণার মধ্যকার সম্পর্কের একটি মানসিক প্রক্রিয়া বা ধারণা তৈরি করা। পক্ষান্তরে, অবধারণ যখন ভাষায় বা লিখিত আকারে প্রকাশিত হয়, তখন তাকে যুক্তিবাক্য বলা হয়। অর্থাৎ অবধারণ হলো মানসিক রূপ এবং যুক্তিবাক্য হলো তার ভাষাগত বা বাহ্যিক রূপ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্চনার বক্তব্যে যুক্তিবাক্যের পরিমাণের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগের উল্লেখ রয়েছে। উদ্দীপকে অর্চনার বক্তব্য হলো— "কিছু কিছু আম ছোট", যা যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিভাগ অনুসারে একটি 'বিশেষ যুক্তিবাক্য' (Particular Proposition)।\n\nপরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্যকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. সার্বিক যুক্তিবাক্য ও ২. বিশেষ যুক্তিবাক্য। যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্তার্থ বা পরিমাণ সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে, তাকে সার্বিক যুক্তিবাক্য বলে। আর যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের আংশিক বা অনির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে স্বীকার বা অস্বীকার করে, তাকে বিশেষ যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকে অর্চনা সব আমের কথা না বলে 'কিছু কিছু আম' সম্পর্কে বলেছে, যা উদ্দেশ্য পদের আংশিক পরিমাণের দিকে নির্দেশ করে। সুতরাং, এটি পরিমাণের দিক থেকে বিশেষ যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাবার বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার গুণ ও পরিমাণের যৌথ ভিত্তির যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিভাগের আলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।\n\nযুক্তিশাস্ত্রে যুক্তিবিদরা কেবল গুণের ভিত্তিতে (সদর্থক ও নঞর্থক) কিংবা কেবল পরিমাণের ভিত্তিতে (সার্বিক ও বিশেষ) যুক্তিবাক্য আলোচনাকে পর্যাপ্ত মনে করেননি। বরং উভয় ভিত্তিকে একত্রে বিবেচনা করে চারটি মৌলিক যুক্তিবাক্যের ধারণা দিয়েছেন, যা ঐতিহ্যবাহী যুক্তিবিদ্যায় 'A', 'E', 'I', 'O' নামে পরিচিত:\n১. সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (A): যাতে সমগ্র উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার করা হয় (যেমন: সকল আম হয় সুন্দর)।\n২. সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য (E): যাতে সমগ্র উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু অস্বীকার করা হয় (যেমন: কোনো আম নয় নষ্ট)।\n৩. বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (I): যাতে উদ্দেশ্যের অংশবিশেষ সম্পর্কে কিছু স্বীকার করা হয় (যেমন: কিছু আম হয় ছোট)।\n৪. বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য (O): যাতে উদ্দেশ্যের অংশবিশেষ সম্পর্কে কিছু অস্বীকার করা হয় (যেমন: কিছু আম নয় মিষ্টি)।\n\nউদ্দীপকে অমল বলল "আমগুলো দেখতে বেশ সুন্দর"— এটি গুণের দিক নির্দেশক (সদর্থক) বক্তব্য এবং অর্চনা বলল "কিছু কিছু আম ছোট"— এটি পরিমাণের দিক নির্দেশক (বিশেষ) বক্তব্য। বাবা তাদের কথার প্রেক্ষিতে সঠিকভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, তারা গুণ ও পরিমাণকে আলাদাভাবে প্রকাশ করেছে, কিন্তু একত্রে উপস্থাপন করেনি। অর্থাৎ তাদের বক্তব্যকে যুক্তিবিদ্যার রূপ দিতে হলে গুণ ও পরিমাণের সমন্বয়ে গঠিত আদর্শ যুক্তিবাক্য (যেমন: 'কিছু আম হয় ছোট ও সুন্দর') আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিল। অতএব, যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী গুণ ও পরিমাণের যৌথ রূপের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরায় বাবার বক্তব্যটি যথার্থ ও সুসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন