বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান'। পুত্র আওরঙ্গজেবের হাতে দারা, সুজা আর মুরাদের মৃত্যু বৃদ্ধ সম্রাট সাজাহানকে যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে। তাঁর বন্দিদশা ও পিতৃহৃদয়ের হাহাকার এই নাটকটিকে শ্রেষ্ঠ ট্রাজেডি নাটকে পরিণত করেছে। সম্রাট সাজাহানের নাম অনুসারে নাটকের নামকরণ করা হয়েছে 'সাজাহান'।
- ক)(1)
'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের রচয়িতা কে?
- খ)(2)
“আসামির সে অধিকার থাকেক নাকি।” –কে, কোন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি করেছেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের রাজবল্লভ, মীরজাফরের প্রতি এই মন্তব্যটি করা হয়।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর দরবারে দেশদ্রোহী রাজবল্লভ, মীরজাফর প্রমুখের বিরুদ্ধে ক্লাইভের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রের চিঠিপত্র ফাঁস করে দিলে তাঁদের কঠোর অনুশোচনা প্রকাশ পায়। একপর্যায়ে মীরজাফর নবাবের ওপর অভিমান প্রকাশ করে কিছু বলতে চাইলে রাজবল্লভ ব্যঙ্গ করে বলেন যে, আসামি হিসেবে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অধিকার থাকে না। এখানে নিজেদের অপরাধ নবাবের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ার পর নিজেদের আসামিরূপেই গণ্য করে উক্ত মন্তব্য করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের ট্র্যাজেডির দিক থেকে সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'সাজাহান' একটি ঐতিহাসিক নাটক, যেখানে মোঘল সম্রাট সাজাহানের শেষ জীবনের মর্মস্পর্শী ট্র্যাজেডি তুলে ধরা হয়েছে। পুত্র আওরঙ্গজেবের হাতে অন্য পুত্রদের মৃত্যু এবং বৃদ্ধ সম্রাটের বন্দিত্ব ও হাহাকার নাটকটিকে এক গভীর ট্র্যাজেডিতে পরিণত করেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের মর্মান্তিক পরিণতি ফুটে উঠেছে। এটিও একটি ঐতিহাসিক ও ট্র্যাজেডিধর্মী নাটক। এখানে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর নিকটজন ও বিশ্বাসভাজনদের চক্রান্ত ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ক্ষমতাচ্যুত, বন্দি এবং শেষপর্যন্ত নির্মমভাবে নিহত হন। উদ্দীপকে যেমন সম্রাট সাজাহানের বন্দিদশা ও অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে ট্র্যাজেডি প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি সিরাজউদ্দৌলা নাটকেও দেশপ্রেমিক নবাবের একাকীত্ব, বন্দিদশা ও আত্মত্যাগের করুণ ট্র্যাজেডি রূপায়িত হয়েছে। সুতরাং, ঐতিহাসিক পটভূমি এবং ট্র্যাজিক পরিণতির ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাজাহান নাটকের নামকরণের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নামকরণ যথার্থ ও সার্থক হয়েছে।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে কোনো নাটক বা রচনার নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, ভাববস্তু বা কেন্দ্রীয় চরিত্রের গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত 'সাজাহান' নাটকের নামকরণ করা হয়েছে এর কেন্দ্রীয় ট্র্যাজিক চরিত্র সম্রাট সাজাহানের নামানুসারে, যাঁর অন্তর্বেদনা ও ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে নাটকের কাহিনী আবর্তিত।
একইভাবে, নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে নাটকের মূল চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে কেন্দ্র করে। পলাশীর যুদ্ধ, দেশীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চক্রান্ত, ইংরেজ বেনিয়াদের আগ্রাসন এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তরুণ দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সিরাজউদ্দৌলার উত্থান-পতন, স্বদেশপ্রেম, মানসিক দ্বন্দ্ব ও মর্মান্তিক পরিণতিই নাটকের সমস্ত ঘটনার মূল ধারা নির্ধারণ করেছে। তাঁর পতন ও মৃত্যুর মধ্য দিয়েই নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সাজাহান নাটকের মতোই কেন্দ্রীয় চরিত্রের ট্র্যাজিক মহিমাকে উপজীব্য করে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নামকরণ সিরাজউদ্দৌলার নামে করা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত ও সার্থক হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও