গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ছয় বছর বয়সী তাসনিমা খুব অস্থির প্রকৃতির। সে তার জামা কাপড়ে ফল খাওয়ার সময় ফলের রস এবং খাবার খাওয়ার সময় তরকারির দাগ লাগিয়ে ফেলে। খেলতে গিয়ে পোশাকের বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে ফেলে। তার মা বিভিন্ন সেলাই কৌশল অবলম্বন করে পোশাকগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন।
- ক)(1)
তীব্র অপসারক কী?
- খ)(2)
কাপড় থেকে দাগ দূর করার সাধারণ নিয়ম লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দাগগুলো অপসারণের পদ্ধতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পোশাক বাতিল না করেও পরিবর্তন করে ব্যবহার করা যায়- পাঠ্যবই এর আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব রাসায়নিক উপাদান বা ব্লিচ খুব দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে কাপড়ের দাগ দূর করে কিন্তু কাপড়ের তন্তুর ক্ষতি করার ঝুঁকি থাকে, সেগুলোকে তীব্র অপসারক বলে (যেমন- সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বা ক্লোরিন ব্লিচ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাপড় থেকে দাগ দূর করার সাধারণ নিয়মগুলো হলো:
১. দাগ লাগার সাথে সাথে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা, কারণ দাগ পুরনো হলে তা স্থায়ী হয়ে যায়।
২. কাপড়ের তন্তুর প্রকৃতি (যেমন- সুতি, রেশম, পশম ইত্যাদি) এবং দাগের ধরন জেনে উপযুক্ত মৃদু অপসারক ব্যবহার করা।
৩. পুরো কাপড়ে অপসারক ব্যবহারের আগে কাপড়ের ভেতরের কোনো লুকানো অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া যাতে কাপড়ের রঙ ও ক্ষতি না হয়। দাগ তোলার পর কাপড়টি ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাসনিমার পোশাকে ফলের রস ও তরকারির দাগ লেগেছে। এ দাগগুলো অপসারণের পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ফলের রসের দাগ: ফলের রসের দাগ টাটকা অবস্থায় ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দূর করা যায়। দাগ পুরনো বা শক্ত হলে দাগের ওপর লেবুর রস ও লবণ মেখে রোদে রেখে দিতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগ উঠে যায়। সুতি সাদা কাপড়ে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. তরকারির দাগ: তরকারিতে সাধারণত তেল ও হলুদ থাকে। দাগ লাগার সাথে সাথে সাবান ও গরম পানি দিয়ে ঘষে ধুতে হয়। এরপর দাগযুক্ত অংশটি রোদে শুকাতে দিলে সূর্যের আলোর প্রভাবে হলুদের দাগ মিলিয়ে যায়। তেলতেলে ভাব দূর করতে ট্যালকম পাউডার বা চকের গুঁড়ো দিয়ে তেল শুষে নেওয়া যেতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোশাক ছিঁড়ে গেলে বা ব্যবহারের অনুপযোগী মনে হলেও তা সম্পূর্ণ বাতিল না করে মেরামত ও রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা যায়—উক্তিটি যথার্থ।
তাসনিমার মা বিভিন্ন সেলাই কৌশল প্রয়োগ করে পোশাকগুলো ঠিক করেছেন। পাঠ্যবই অনুযায়ী এর উপায়গুলো নিম্নরূপ:
১. রিপু করা (Mending/Darning): কাপড় কোথাও ছিঁড়ে গেলে বা ফেঁসে গেলে অনুরূপ রঙের সুতা দিয়ে টানা ও পোড়েনের বুনন তৈরি করে রিপু করা যায়।
২. তালি লাগানো (Patching): কাপড়ের কোনো অংশ বেশি ছিঁড়ে গেলে বা গর্ত হলে সমজাতীয় কাপড়ের টুকরো দিয়ে তালি লাগিয়ে তা মজবুত করা যায়।
৩. নকশাকরণ ও অ্যাপ্লিক (Applique): ছেঁড়া জায়গায় বিভিন্ন রঙিন কাপড় কেটে ফুল, পাতা বা কার্টুনের নকশা বসিয়ে (অ্যাপ্লিক) সেলাই করে দিলে ছেঁড়া অংশটি ঢেকে যায় এবং পোশাকটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
৪. পোশাকের রূপান্তর: বড়দের পুরনো পোশাক কেটে শিশুদের জন্য জামা, অ্যাপ্রন বা গৃহস্থালির অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করা যায়।অতএব, সঠিক সেলাই কৌশল ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বাতিল না করেও পোশাকের আয়ু বাড়িয়ে তা উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও