হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

ঘটনা-১: প্রান্তিক খুব বেশি ঈশ্বর ভক্ত। তাই মিষ্টার 'ক' নানাভাবে তাকে নিবৃত্ত করতে উদ্যত হন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ। কারণ সমগ্র বাধা- বিপত্তি থেকে স্বয়ং ঈশ্বরই তাকে রক্ষা করেন।ঘটনা-২: রাতুল সর্বদা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে। কিন্তু তার সহপাঠী বিমল নেশায় আসক্ত। তাই পিতা-মাতার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। বিষয়টা রাতুলের কাছে খুব কষ্টদায়ক মনে হয়। এজন্য বিমলের বাবা ও রাতুল বিমলকে সঙ্গ দেয় এবং মন্দিরে নিয়ে যায়। বর্তমানে বিমল সব অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকে।

  1. ক)

    অভিবাদন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাঁচটি অঙ্গযোগে গঠিত প্রণামকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-১ এ পাঠ্যপুস্তকের কোন দিকটি উপস্থিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমলের বাবা ও রাতুলের কর্মকাণ্ডই স্মরণ করিয়ে দেয়, সমাজে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনই যথেষ্ট। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাক্য দ্বারা 'প্রণাম করি' বলে আনত হওয়াকে অভিবাদন বলে। অনেক সময় বাক্য উচ্চারণ না করে কেবল আনত হয়েও অভিবাদন জানানো হয়।

  2. খ)

    পাঁচটি অঙ্গযোগে গঠিত প্রণামকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে। তন্ত্রসার গ্রন্থ অনুযায়ী বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শিনেন্দ্রিয়, এই পাঁচ অঙ্গ যোগে অবনত হয়ে এই প্রণাম করা হয়। প্রণাম চার প্রকার, অভিবাদন, পঞ্চাঙ্গ প্রণাম, অষ্টাঙ্গ প্রণাম ও নমস্কার। এটি গুরুজনদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি রীতি।

  3. গ)

    ঘটনা-১ এ পাঠ্যপুস্তকের 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানের দিকটি উপস্থিত। এটি প্রহ্লাদ ও হিরণ্যকশিপুর কাহিনির সাথে সংশ্লিষ্ট।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে এবং ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। ধার্মিক সাময়িক কষ্ট পেলেও পরিণামে ধর্মের জয় হয়। উপাখ্যানে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু হরিবিদ্বেষী, কিন্তু তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ হরিভক্ত। রাজা প্রহ্লাদকে হত্যা করতে শূল, বিষমিশ্রিত অন্ন, হাতির পায়ের নিচে, সর্পের প্রকোষ্ঠ ও সমুদ্রে নিক্ষেপ প্রভৃতি উপায় নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই শ্রীহরি তাঁকে রক্ষা করেন। শেষে নৃসিংহ অবতাররূপে শ্রীহরি হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন।

    উদ্দীপকে প্রান্তিক ঈশ্বরের পরম ভক্ত। মিস্টার 'ক' নানাভাবে তাকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু স্বয়ং ঈশ্বরই সব বাধা-বিপত্তি থেকে তাকে রক্ষা করেন। এখানে প্রান্তিক প্রহ্লাদের মতো ভক্ত, মিস্টার 'ক' হিরণ্যকশিপুর মতো বাধাদানকারী, আর ঈশ্বরের রক্ষা শ্রীহরির রক্ষার মতো।

    অতএব ঘটনা-১ এ ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে এবং ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী, এই শিক্ষাটি প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ বিমলের বাবা ও রাতুলের কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, সমাজে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনই যথেষ্ট। পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমি উক্তিটি সঠিক বলে মনে করি।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তি অনৈতিক ও অধর্মের পথ। এটি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল করে দেয়। হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপের একটি। পরিবারই সমাজের প্রথম স্তর। তাই পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ সকলের ওপর প্রভাব ফেলে।

    ১. দেহ ঈশ্বরের মন্দির : পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে হবে, আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন। তাই দেহ ঈশ্বরের মন্দির। একে মাদক দিয়ে অপবিত্র করা চলবে না। রাতুল ধর্মীয় অনুশাসন মানে বলেই বিমলকে এই পথ থেকে ফেরাতে চেয়েছে।

    ২. সঙ্গ ও দৃষ্টান্তের গুরুত্ব : পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পারিবারিক কর্তব্য। কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখাতে হবে, যেমন 'আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়'। বিমলের বাবা ও রাতুল বিমলকে সঙ্গ দিয়েছে। এতে বিমল একা অনুভব করেনি।

    ৩. মন্দিরে নেওয়া : তারা বিমলকে মন্দিরে নিয়ে গেছে। ধর্মীয় পরিবেশ মনকে পবিত্র ও শান্ত করে এবং অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে। এর ফলে বর্তমানে বিমল সব অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকে।

    ৪. অন্য দিক : অবশ্য মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সামাজিক উদ্যোগেরও প্রয়োজন হতে পারে। তবু পরিবার ও ধর্মের অনুশাসন প্রতিরোধের ভিত্তি এবং এর ওপরেই অন্য ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

    সুতরাং বিমলের বাবা ও রাতুলের দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন অত্যন্ত কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন