অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

"X" দেশে ২০২০ সালে ভোক্তার মূল্য সূচক ছিল ১৬০। যা ২০২২ সালে ২০০ হয়। সম্প্রতি বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের ফলে দাম স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  1. ক)

    সূচক সংখ্যা কি?

    (1)
  2. খ)

    অর্থের যোগান বৃদ্ধির কারণে কিভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে "X" দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তোমার মতামত ব্যাক্ত কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি বছরের তুলনায় চলতি বছরে সামগ্রিক দামস্তরের আপেক্ষিক পরিবর্তন পরিমাপের জন্য যে সংখ্যাবাচক কৌশল বা পরিমাপক ব্যবহার করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে জনগণের হাতে অতিরিক্ত তরল অর্থ বা নগদ অর্থ চলে আসে, যার ফলে সমাজে সামগ্রিক চাহিদা বা ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদনের পরিমাণ বা পণ্য ও সেবার যোগান সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে 'অধিক পরিমাণ অর্থ কম পরিমাণ দ্রব্যের পেছনে ধাবিত হয়', যার কারণে পণ্যের দাম স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী,
    ভিত্তি বছর (২০২০)-এর ভোক্তার মূল্য সূচক, CPI0=১৬০CPI_0 = ১৬০
    চলতি বছর (২০২২)-এর ভোক্তার মূল্য সূচক, CPI1=২০০CPI_1 = ২০০

    আমরা জানি, মুদ্রাস্ফীতির হার (IRIR) নির্ণয়ের সূত্র:
    IR=CPI1−CPI0CPI0×১০০IR = \frac{CPI_1 - CPI_0}{CPI_0} \times ১০০

    মান বসিয়ে পাই,
    IR=২০০−১৬০১৬০×১০০IR = \frac{২০০ - ১৬০}{১৬০} \times ১০০
    IR=৪০১৬০×১০০IR = \frac{৪০}{১৬০} \times ১০০
    IR=১৪×১০০=২৫%IR = \frac{১}{৪} \times ১০০ = ২৫\%

    অতএব, "X" দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার হলো ২৫%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিম্নলিখিত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়:

    ১. আর্থিক নীতি (Monetary Policy) প্রয়োগ:

    • কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক হার ও সুদের হার বৃদ্ধি করতে হবে যাতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয় এবং মুদ্রা সরবরাহ হ্রাস পায়।
    • অনাবশ্যক ও বিলাসবহুল পণ্যের ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

    ২. রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy) প্রয়োগ:

    • অতিপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাস করা, যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে।
    • সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন করা।

    ৩. বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের সমাধান:

    • প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৈধ পথে আনার জন্য প্রণোদনা বৃদ্ধি করা।
    • অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসদ্রব্য আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
    • রপ্তানি আয় ত্বরান্বিত করার জন্য রপ্তানিকারকদের নীতিগত সহায়তা দেওয়া।

    ৪. প্রত্যক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি:

    • কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি প্রদান করা।
    • বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি রোধে কঠোর বাজার তদারকি নিশ্চিত করা।

    সমন্বিতভাবে আর্থিক, রাজস্ব ও বাণিজ্য নীতির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এই বহুমুখী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন