পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
'Civis' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত [?] স্থান কোন ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত [?] বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন 'Civis' (সিভিস) শব্দের অর্থ হলো 'নাগরিক' (Citizen)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কাজ করার ক্ষমতা বা অধিকারকে বোঝায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তা করাকে বোঝায় না। পৌরনীতির দৃষ্টিতে স্বাধীনতা হলো এমন এক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে অন্যের কাজে বাধা বা ক্ষতি না করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। অধ্যাপক লাস্কির মতে, "স্বাধীনতা বলতে আমি বুঝি সেই সামাজিক পরিবেশ সংরক্ষণ, যেখানে মানুষ তার ব্যক্তিসত্ত্বাকে পূর্ণভাবে বিকশিত করার সুযোগ পায়।"
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত [?] স্থানে 'সুশাসন' (Good Governance) ধারণাকে নির্দেশ করে।
সুশাসন হলো এমন এক ধরনের কার্যকর শাসনব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা, বৈধতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে। এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে একটি সহযোগিতাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রস্থিত প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি থেকে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, বৈধতা ও জবাবদিহিতা প্রভৃতি উপাদান উৎসারিত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত সুশাসনের প্রধানতম স্তম্ভ বা বৈশিষ্ট্য। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনডিপি-র মতে সুশাসনের মৌলিক শর্তগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন অন্যতম। সুতরাং উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত স্থানটি নিঃসন্দেহে সুশাসন ধারণাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি, অর্থাৎ 'সুশাসন'-এর গুরুত্ব অপরিসীম। সুশাসন ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই সফল ও অর্থবহ হতে পারে না।
গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো জনগণের শাসন এবং জনগণের কল্যাণ সাধন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: সুশাসনের অন্যতম উপাদান আইনের শাসন। এর ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান অধিকার পায় এবং আইনের চোখে সকলেই সমান বিবেচিত হয়।
২. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। সুশাসন সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি প্রতিরোধ করে এবং প্রশাসনে গতিশীলতা আনে।
৩. মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণ করে।
৪. জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ: সুশাসনে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, যা একটি কার্যকর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ফলেই দেশের সম্পদ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হয় এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসন এবং গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। সুশাসন অনুপস্থিত থাকলে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়। তাই একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও