জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ডিম --> নিম্ফ --> পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং
- ক)(1)
হিমোসিল কী?
- খ)(2)
রূপান্তর বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রাণীটির নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশিত হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রেখাচিত্রটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের মেসোডার্ম উদ্ভূত, রক্তপূর্ণ এবং পেরিকার্ডিয়াল, পেরিভিসারাল ও পেরিভিউরাল সাইনাসে বিভক্ত দেহগহ্বরকে হিমোসিল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় ভ্রূণীয় পর্যায় থেকে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণী পূর্ণাঙ্গ দশায় রূপ লাভ করে, তাকে রূপান্তর (Metamorphosis) বলে। পতঙ্গের ক্ষেত্রে রূপান্তর প্রধানত দুই প্রকার: সম্পূর্ণ রূপান্তর (যেখানে ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ দশা থাকে) এবং অসম্পূর্ণ রূপান্তর (যেখানে ডিম, নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ দশা থাকে)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)। নিচে এর মাধ্যমে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শোষণ: ম্যালপিজিয়ান নালিকাগুলো হিমোলিম্ফে নিমজ্জিত থাকে। হিমোলিম্ফ থেকে পটাশিয়াম ইউরেট, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নালিকার প্রাচীরস্থ কোষগুলো দ্বারা শোষিত হয়ে নালিকার গহ্বরে প্রবেশ করে।
২. রাসায়নিক রূপান্তর: নালিকার গহ্বরে পটাশিয়াম ইউরেট, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট ও অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয়।
৩. পুনঃশোষণ: উৎপন্ন পটাশিয়াম বাইকার্বনেট ও প্রয়োজনীয় পানি পুনরায় হিমোলিম্ফে শোষিত হয়ে ফিরে যায়।
৪. নিষ্কাশন: কঠিন দানার মতো ইউরিক অ্যাসিড নালিকার গোড়ায় জমা হয় এবং তা পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালির ইলিয়ামে প্রেরিত হয়। পরবর্তীতে রেকটামে অতিরিক্ত পানি শোষিত হয়ে তা শুষ্ক ইউরিক অ্যাসিডে রূপ নেয় এবং মলের সাথে পায়ুর মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রেখাচিত্রটিতে 'ডিম --> নিম্ফ --> পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং' এর মাধ্যমে ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর জীবনচক্র প্রদর্শিত হয়েছে। এটি একটি অসম্পূর্ণ রূপান্তর (Incomplete metamorphosis বা Hemimetabolous)।
নিচে রেখাচিত্রটির বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. অসম্পূর্ণ রূপান্তরের বৈশিষ্ট্য: যে রূপান্তরে রূপান্তরের পর্যায়গুলো সুস্পষ্টভাবে পৃথক নয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দশা দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো হয়, তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। এখানে কোনো লার্ভা ও নিশ্চল পিউপা দশা নেই।২. ডিম (Egg): প্রজননের পর স্ত্রী ঘাসফড়িং ওভিপোজিটরের সাহায্যে মাটির নিচে গর্ত করে ডিম পাড়ে। শীতের শেষে অনুকূল তাপমাত্রায় ডিম ফুটে ক্ষুদ্র অপ্রাপ্তবয়স্ক ঘাসফড়িং বা নিম্ফ বের হয়।
৩. নিম্ফ (Nymph): ডিম ফুটে বের হওয়া ক্ষুদ্রাকৃতির অপ্রাপ্তবয়স্ক ঘাসফড়িংকে নিম্ফ বলে। দেখতে এটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ের মতোই, তবে এতে ডানা ও জননাঙ্গ গঠিত থাকে না। নিম্ফের কাইটিননির্মিত বহিঃকঙ্কাল অনমনীয় হওয়ায় দেহবৃদ্ধির সাথে সাথে এটি পুরোনো ত্বক খোলস হিসেবে ত্যাগ করে; এ প্রক্রিয়াকে খোলসত্যাগ বা একডাইসিস (ecdysis) বলে। ঘাসফড়িংয়ে নিম্ফ দশায় মোট ৫ বার খোলস মোচন ঘটে এবং প্রতিটি ধাপকে ইনস্টার (instar) বলা হয়।
৪. পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং (Adult/Imago): পঞ্চম খোলস মোচনের পর নিম্ফ ডানা ও পূর্ণাঙ্গ প্রজনন অঙ্গসহ সম্পূর্ণ পরিণত ঘাসফড়িংয়ে রূপ লাভ করে।
সুতরাং, রেখাচিত্রটি ঘাসফড়িংয়ের জীবনচক্রে ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিম থেকে নিম্ফ হয়ে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িঙে উপনীত হওয়ার একটি আদর্শ অসম্পূর্ণ রূপান্তর নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও