বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.1.
একটি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
11.2.
গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়ানো বিষয়ে একটি খুদেগল্প রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১ একটি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ
চরিত্র: তানভীর ও ফাহিম
তানভীর: কেমন আছিস ফাহিম? অনেকদিন পর দেখা হলো।
ফাহিম: ভালো আছি তানভীর। তুই কেমন আছিস? তোদের তো স্কুল ছুটির পর বাগেরহাটে যাওয়ার কথা ছিল, গিয়েছিস?
তানভীর: হ্যাঁ, গত সপ্তাহে আমি সপরিবারে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে এলাম। সত্যিই অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা!
ফাহিম: তাই নাকি! জায়গাটা কেমন লাগল? সেখানে কী কী দেখলি?
তানভীর: অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী! পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুফি সাধক ও বীর যোদ্ধা হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। দূর থেকে একনজরে দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। মসজিদের বিশাল গম্বুজ ও চুন-সুরকির কারুকাজ চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
ফাহিম: মসজিদের নাম ষাটগম্বুজ, কিন্তু গম্বুজ কি সত্যিই ষাটটি?
তানভীর: না, আসলে এটাই অদ্ভুত বিষয়। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট একাশিটি গম্বুজ রয়েছে। এর মধ্যে মূল ছাদের ওপর ৭৭টি এবং চার কোণের চারটি মিনারের ওপর ৪টি গম্বুজ। তবে ছাদকে ধারণ করে রেখেছে ৬০টি পাথরের তৈরি স্তম্ভ। হয়তো এই স্তম্ভগুলোর কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ষাটগম্বুজ’।
ফাহিম: চমৎকার তথ্য তো! সেখানে আর কী দেখলি?
তানভীর: মসজিদের পাশেই রয়েছে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এবং সুবিশাল ‘ঘোড়াদীঘি’। এছাড়া খানজাহান আলীর প্রাচীন বসতভিটার ধ্বংসাবশেষও দেখেছি। ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ফাহিম: তোর কথা শুনে আমারও সেখানে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হচ্ছে।
তানভীর: অবশ্যই সময় করে ঘুরে আসবি। আমাদের দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানতে ঐতিহাসিক স্থানগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
ফাহিম: ঠিক বলেছিস। ধন্যবাদ তানভীর, এত সুন্দর একটা অভিজ্ঞতার কথা জানানোর জন্য।
তানভীর: তোমাকেও ধন্যবাদ।
১১.২ গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়ানো বিষয়ে খুদেগল্প:
মাটির টানে, ছায়ার গানে
তপ্ত বৈশাখের কাঠফাটা রোদ আর নাগরিক যান্ত্রিকতার কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে গ্রীষ্মের ছুটি ঘোষণা হতেই রোদ আর ধূলোবালি ছেড়ে আমি ছুটলাম ময়মনসিংহের এক প্রত্যন্ত গ্রামে, নানার বাড়ি। শেষবার যখন গ্রামে গিয়েছিলাম, তখন শৈশবের স্মৃতিগুলো অনেকটাই ঝাপসা ছিল। দীর্ঘ বাসযাত্রার ক্লান্তি একমুহূর্তেই উবে গেল যখন মেঠোপথে পা রাখলাম। চারপাশে সোনালি ধানের ঘ্রাণ আর সতেজ বাতাসের কোমল স্পর্শ যেন মন জুড়িয়ে দিল।
নানার বাড়িতে পা দিতেই নানি পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরলেন। পরদিন ভোর হতেই মামাতো ভাই শাকিলের ডাকে ঘুম ভাঙল। শুরু হলো গ্রামীণ জীবনের অপূর্ব রোমাঞ্চ। গ্রামের আম-কাঁঠালের বাগানে ঘুরে পাকা আম কুড়ানো, গাছের ডাল বেয়ে উঠে কাঁচা-মিঠা জাম্বুরা পাড়া আর পুকুরের শীতল জলে সাঁতার কাটা—শহরের চার দেয়ালে বন্দি জীবনে এসব ছিল কল্পনাতীত। দুপুরে নানির হাতের দেশি কই মাছ আর শর্ষে-শাক দিয়ে খাওয়ার তৃপ্তি ছিল যেকোনো আধুনিক রেস্তোরাঁর চেয়ে বহুগুণ বেশি।
এক অলস দুপুরে সবাই মিলে বটগাছের ছায়ায় বসে রাখালের বাঁশির সুর শুনেছিলাম। সন্ধ্যায় বিলের ধারে বসে রক্তিম সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখতে দেখতে উপলব্ধি হলো, জীবনের আসল শান্তি ও প্রশান্তি মাটির কত কাছাকাছি থাকে। ছুটি শেষে যখন শহরে ফেরার গাড়ি এলো, তখন চোখ দুটো ভিজে উঠেছিল। যান্ত্রিক শহরে ফিরে এলেও আমার মন পড়ে রইল সেই সবুজ বনানী আর মেঠোপথের স্নিগ্ধতায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও