ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

তালিকাভুক্ত কিছু ব্যাংক সম্প্রতি জনগণকে অধিক ঋণ দেওয়ার ফলে দেশে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের একমাত্র ব্যাংকটি ঈজজ ও ঝখজ-এর মাধ্যমে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে প্রকট সমস্যা দেখাদিয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলার জন্য তারা এ ব্যাংকটির দ্বারস্থ হয়েছে।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংকটি মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কি পদ্ধতি গ্রহণ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে একমাত্র ব্যাংকটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।” তুমি কি একমত? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে পণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অর্থনৈতিক অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ না বাড়িয়ে বা না কমিয়ে নির্দিষ্ট কিছু খাত বা উদ্দেশ্যে ঋণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বরাদ্দ পরিবর্তন করে, তাকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত বা নির্বাচনমূলক পদ্ধতি বলে।

    এ পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধকী ঋণের প্রান্তিক হার পরিবর্তন, ঋণের রেশনিং ব্যবস্থা, ভোক্তা ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সরাসরি নির্দেশ জারি বা নৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ায় এবং অনুৎপাদনশীল বা ফটকাবাজারিতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংকটি (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য ঋণ নিয়ন্ত্রণের ‘পরিমাণগত বা সাধারণ পদ্ধতি’ এবং নির্দিষ্টভাবে ‘জমার অনুপাত পরিবর্তন পদ্ধতি’ গ্রহণ করেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজারে ঋণের মোট পরিমাণ ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যে সাধারণ কৌশলগুলো প্রয়োগ করে, তাকে পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। এর মধ্যে একটি প্রধান পদ্ধতি হলো জমার অনুপাত পরিবর্তন।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ হিসেবে (CRR - Cash Reserve Ratio) এবং নির্দিষ্ট অংশ নগদ বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজ আকারে (SLR - Statutory Liquidity Ratio) জমা রাখতে হয়। উদ্দীপকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণদানের ফলে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সিআরআর ও এসএলআর-এর হার বৃদ্ধি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত করার মাধ্যমে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা জমার অনুপাত পরিবর্তন পদ্ধতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, “তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে একমাত্র ব্যাংকটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে”—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের অভিভাবক এবং ‘নিকাশঘর’ (Clearing House) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর চেক, ড্রাফট ইত্যাদি আদান-প্রদান করে থাকেন, যার ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিপুল দেনা-পাওনার সৃষ্টি হয়।

    নিকাশঘর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের একত্রিত করে তাদের পারস্পরিক দাবি-দাওয়াসমূহ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সহজেই সমন্বয় ও নিষ্পত্তি করে দেয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ সরাসরি আদান-প্রদান করতে হয় না; কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তে ডেবিট-ক্রেডিট করেই দেনা-পাওনা পরিশোধ হয়ে যায়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে প্রকট সমস্যা দেখা দিলে তারা দেশের একমাত্র ব্যাংকটির (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) দ্বারস্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর নিকাশঘর সুবিধা ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হতো। সুতরাং, আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন