ভূগোল এবং পরিবেশ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৬
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: সমুদ্র তীরে পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে লিপি দেখলো, সমুদ্রের শান্ত পানি ধীরে ধীরে স্ফীত হয়ে তীব্রবেগে তীরে আছড়ে পড়ছে। লিপি ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ে পড়েছে সমুদ্রের পানিতে এরূপ ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে থাকে।
দৃশ্যকল্প-২: রিতু টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদনে দেখলো, সমুদ্রের তীরের স্থলভাগ সামান্য ঢালু হয়ে পানিতে নেমে গিয়েছে আবার ভূমি হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে গভীর সমুদ্রে মিশে গিয়েছে।
- ক)(1)
সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
- খ)(2)
শীতকালে নরওয়ে উপকূল বরফমুক্ত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
লিপির দেখা পানিতে এরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রিতুর দেখা সমুদ্র তলদেশে ভূমিরূপ দুটির মধ্যে কোনটি অধিক বন্ধুর প্রকৃতির হয়? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নির্দিষ্ট দিকে নির্দিষ্ট গতিতে সমুদ্রের পানির প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
- খ)
শীতকালে নরওয়ে উপকূল বরফমুক্ত থাকে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে। এই উষ্ণ স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি বয়ে এনে নরওয়ে ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে শীতকালেও সেখানে পানি জমে বরফ হয় না এবং বন্দরগুলো সারা বছর ব্যবহার করা যায়। অথচ একই অক্ষাংশে অবস্থিত কানাডার পূর্ব উপকূল বরফাচ্ছন্ন থাকে।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ লিপির দেখা ঘটনাটি জোয়ার। সমুদ্রের পানি ধীরে ধীরে ফুলে উঠে তীরে আছড়ে পড়াই জোয়ার। দুটি কারণে এটি ঘটে।
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের (ও সূর্যের) সবচেয়ে কাছে থাকে, সেখানে মহাকর্ষ শক্তির টানে পানি ফুলে ওঠে। চাঁদ কাছে বলে সূর্যের চেয়ে চাঁদের প্রভাব বেশি।
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কেন্দ্রাতিগ শক্তি সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকেও পানি বিক্ষিপ্ত হয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে।উদ্দীপকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য প্রায় এক সরলরেখায় আসে, ফলে দুটি আকর্ষণ একসঙ্গে কাজ করে এবং জোয়ার তুলনামূলক বেশি তীব্র হয়।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এ রিতুর দেখা ভূমিরূপ দুটি হলো মহীসোপান (স্থলভাগ সামান্য ঢালু হয়ে পানিতে নামা) ও মহীঢাল (ভূমি হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে গভীর সমুদ্রে মেশা)। এ দুটির মধ্যে মহীঢাল অধিক বন্ধুর প্রকৃতির।
১. ঢালের প্রকৃতি: মহীসোপান প্রায় কোণে অল্প ঢালু। কিন্তু মহীঢাল হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে যায়।
২. গভীরতা: মহীসোপানের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১৫০ মিটার। মহীঢালের গভীরতা ২০০ থেকে ৩,০০০ মিটার।
৩. প্রশস্ততা: মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার। মহীঢাল খাড়া বলে এর প্রশস্ততা কম, গড়ে ১৬ থেকে ৩২ কিলোমিটার।
৪. উপরিভাগ: মহীঢালের উপরিভাগ সমান নয়। এতে অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত থাকায় তা খুবই বন্ধুর। মহীসোপান তুলনামূলকভাবে মসৃণ।সুতরাং, খাড়া ঢাল, বেশি গভীরতা ও অসংখ্য গিরিখাতের কারণে মহীঢালই অধিক বন্ধুর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও