জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের ব্লাকবোর্ডের একটি কোষের সূক্ষ্মগঠনের চিত্র আঁকলেন এবং কোষ অঙ্গাণু A ও B চিহ্নিত করলেন। W. Schimper ১৮৮৩ সালে কোষ অঙ্গাণু A সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন এবং এর নামকরণ করেন। Albert Von Kolliker ১৮৫০ সালে কোষ অঙ্গাণু B লক্ষ্য করেন এবং ১৮৯৮ সালে Carl Benda এর নামকরণ করেন।

  1. ক)

    কোষীয় কঙ্কাল কী?

    (1)
  2. খ)

    জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোষের চিহ্নিত চিত্র আঁক।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কোষ অঙ্গাণু দুইটির গঠনের তুলনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকা প্রোটিন নির্মিত সূক্ষ্ম তন্তু ও নালিকা সমন্বয়ে গঠিত যে জালিকা কোষের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে, তাকে কোষীয় কঙ্কাল (Cytoskeleton) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    DNA বা mRNA অণুতে যে নির্দিষ্ট তিনটি করে নাইট্রোজেন ক্ষারক পরপর সজ্জিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশ বা সংকেতায়িত করে, তাকে জেনেটিক কোড বা ট্রিপলেট কোডন বলে। উদাহরণস্বরূপ, AUG কোডনটি মিথিওনিন অ্যামাইনো এসিডের সংকেত বহন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ শুরুর নির্দেশ প্রদান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্লাস্টিড ও মাইটোকন্ড্রিয়া উভয়ের উপস্থিতির কারণে এটি একটি 'আদর্শ উদ্ভিদ কোষ'।

    আদর্শ উদ্ভিদ কোষের একটি পরিষ্কার চিহ্নিত চিত্র নিচে বিবৃত হলো:

    ১. বাইরে থাকে নির্জীব ও পুরু কোষপ্রাচীর (প্রাথমিক প্রাচীর, মধ্যপর্দা, গৌণ প্রাচীর) এবং ভেতরে প্লাজমামেমব্রেন।
    ২. কেন্দ্রের দিকে একটি বৃহদাকার কেন্দ্রীয় কোষগহ্বর থাকে যা টোনোপ্লাস্ট দ্বারা বেষ্টিত।
    ৩. সাইটোপ্লাজমের পরিধির দিকে ঠেলে থাকা নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস, ক্রোমাটিন তন্তু ও নিউক্লিয়ার রন্ধ্রসহ)।
    ৪. অঙ্গাণু হিসেবে ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (মসৃণ ও অমসৃণ), গলগি বস্তু (ডিকটায়োজোম), রাইবোজোম ও পারঅক্সিজোম চিহ্নিত করতে হবে।
    ৫. পাশাপাশি কোষে সংযোগ রক্ষাকারী প্লাজমোডেসমাটা অঙ্কন করতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণু A হলো ক্লোরোপ্লাস্ট এবং অঙ্গাণু B হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিম্নে এদের গঠনের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. আবরণী: ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া উভয়ই দ্বি-স্তরবিশিষ্ট একক পর্দাবেষ্টিত অঙ্গাণু। তবে ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের ঝিল্লি সাধারণত মসৃণ থাকে, পক্ষান্তরে মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিটি ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে।

    ২. অভ্যন্তরীণ প্রকোষ্ঠ ও ধাত্র: ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের জেলিসদৃশ অংশকে স্ট্রোমা (Stroma) বলে, আর মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে বিদ্যমান অর্ধতরল পদার্থকে ম্যাট্রিক্স (Matrix) বলে।

    ৩. বিশেষ গঠন: ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে থাইলাকয়েড নামক চ্যাপ্টা থলির মতো অংশ থাকে, যা একটার ওপর আরেকটা সজ্জিত হয়ে গ্রানাম গঠন করে। পক্ষান্তরে মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত এটিপি-সিন্থেসিস ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের বিভিন্ন উপাদান সজ্জিত থাকে।

    ৪. রঞ্জক পদার্থ: ক্লোরোপ্লাস্টে ফটোসিন্থেটিক পিগমেন্ট (ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড ইত্যাদি) উপস্থিত থাকে, যা মাইটোকন্ড্রিয়ায় অনুপস্থিত।

    ৫. জেনেটিক উপাদান ও রাইবোজোম: উভয় অঙ্গাণুতেই নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং 70S রাইবোজোম বিদ্যমান থাকে, ফলে এরা উভয়ই অর্ধ-স্বয়ংক্রিয় অঙ্গাণু হিসেবে কাজ করে।

    সুতরাং, উভয় অঙ্গাণুই শক্তি রূপান্তরের সাথে জড়িত হলেও তাদের সূক্ষ্ম গঠনে সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন