ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. আবিরের একটি রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস আছে। তিনি ১,০০,০০,০০০ টাকা দিয়ে একটি বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করেন। প্রতিষ্ঠানটি দুর্ঘটনায় পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং মি. আবির বিমাদাবি উপস্থাপন করলেন। বিমাকারী দাবির সমুদয় অর্থ পরিশোধ করলেন। শুরুতে তিনি উদ্ধারকৃত দ্রব্যগুলো বিমা কোম্পানিকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালেও কিন্তু শেষে বাধ্য হন।

  1. ক)

    ঝুঁকি কী?

    (1)
  2. খ)

    বিমাকে কেন ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উপরিউক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর বিমার কোন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. আবিরের উদ্ধারকৃত দ্রব্য দাবি করার কোনো অধিকার নাই”— তুমি কি এই উক্তিটির সাথে একমত? মন্তব্য কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তাকেই বিমাব্যবস্থায় ঝুঁকি বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী বিমাগ্রহীতাকে কেবল প্রকৃত ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে পূর্বের আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়, বিমার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা যায় না; তাই বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।

    বিমা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত বিমাগ্রহীতার আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া। জীবন বিমা ব্যতীত অন্যান্য সব সাধারণ বিমায় (যেমন: অগ্নি ও নৌ বিমা) ক্ষতির অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করা হয় না, ফলে বিমাগ্রহীতা কোনো আর্থিক মুনাফা লাভ করতে পারেন না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সম্পত্তি হস্তান্তর বিমার 'স্থলাভিষিক্ততার নীতি' (Principle of Subrogation)-র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    স্থলাভিষিক্ততার নীতি অনুসারে, বিমাকৃত সম্পত্তির সম্পূর্ণ ক্ষতি সাধিত হওয়ার পর বিমাকারী যদি বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতির সমুদয় অর্থ বা দাবি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বা উদ্ধারকৃত সম্পত্তির অবশিষ্ট অংশের ওপর বিমাগ্রহীতার মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে বিমাকারীর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

    উদ্দীপকে মি. আবিরের প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হলে বিমা কোম্পানি তাঁকে দাবির সমুদয় ১ কোটি টাকা পরিশোধ করে। বিমাদাবি পুরোপুরি পরিশোধিত হওয়ার কারণে উদ্ধারকৃত পণ্যের ওপর আবিরের আর কোনো মালিকানা থাকে না এবং কোম্পানি তার স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে উদ্ধারকৃত দ্রব্য বিমা কোম্পানিকে হস্তান্তর করা স্থলাভিষিক্ততার নীতির প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি "মি. আবিরের উদ্ধারকৃত দ্রব্য দাবি করার কোনো অধিকার নাই"—উক্তিটির সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    বিমা চুক্তির অন্যতম মৌলিক নীতি হলো 'স্থলাভিষিক্ততার নীতি' এবং 'ক্ষতিপূরণের নীতি'। ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা তার প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পেতে পারেন না। বিমার উদ্দেশ্য বিমাগ্রহীতাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া, তাঁকে মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া নয়।

    উদ্দীপকে মি. আবিরের গার্মেন্টস পুরোপুরি ধ্বংস হলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান বিমাদাবির পূর্ণ ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা পরিশোধ করেছে। দাবির সমুদয় অর্থ পাওয়ার পর স্থলাভিষিক্ততার নীতি অনুসারে উদ্ধারকৃত সম্পত্তির ওপর বিমা কোম্পানির পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

    যদি মি. আবির ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ গ্রহণের পরও উদ্ধারকৃত দ্রব্য নিজের কাছে রাখতেন, তবে তিনি তাঁর প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে বেশি অর্থ বা সুবিধা ভোগ করতেন, যা ক্ষতিপূরণের নীতির পরিপন্থী। সুতরাং, আইন ও নীতিগতভাবে মি. আবিরের উদ্ধারকৃত দ্রব্যের ওপর কোনো প্রকার দাবি করার অধিকার নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন