জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কলেরা রোগের জীবাণুর নাম কী?
- খ)(2)
নভেল করোনা ভাইরাস বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
চিত্র- A এর গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
কৃষিক্ষেত্রে চিত্র-B এর উপকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কলেরা রোগের জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Vibrio cholerae।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নভেল করোনা ভাইরাস (Novel Coronavirus বা SARS-CoV-2) হলো করোনা ভাইরাস গোত্রের একটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ বা স্ট্রেন, যা ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহান শহরে মানুষের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয়। 'নভেল' শব্দের অর্থ নতুন; ইতিপূর্বে এই বিশেষ স্ট্রেনটি মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে দেখা যায়নি। এটি একটি একসূত্রক পজিটিভ-সেন্স আরএনএ (ssRNA) ভাইরাস, যা মানবদেহে শ্বাসতন্ত্রে তীব্র সংক্রামক ব্যাধি (COVID-19) সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-A হলো একটি T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের চিত্র (বিশেষ করে এর মস্তক অংশ)। এর গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. বাহ্যিক রূপ ও আকৃতি: সম্পূর্ণ T2 ফায ভাইরাস দেখতে অনেকটা ব্যাঙাচির মতো এবং এর প্রধান দুটি অংশ রয়েছে— মস্তক (Head) এবং লেজ (Tail)। চিত্রে মস্তক এবং লেজের সংযোগস্থল বা কলার প্রদর্শিত হয়েছে।
২. মস্তক: এর মস্তকটি ষড়ভুজাকার প্রিজমের মতো বা স্ফীত। এটি মূলত প্রোটিন অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি বহিরাবরণী বা ক্যাপসিড (Capsid) দ্বারা আবৃত। ক্যাপসিডের ভেতরে দ্বিসূত্রক রৈখিক ডিএনএ (DNA) অবস্থান করে। মস্তকে কোনো সাইটোপ্লাজম, কোষ অঙ্গাণু বা নিউক্লিয়াস থাকে না। মোট ওজনের প্রায় ৫০% ডিএনএ এবং ৫০% প্রোটিন।
৩. কলার ও লেজ: মস্তকের নিচে একটি সংযোগকারী সরু অংশ রয়েছে যাকে কলার (Collar) বলে। কলারের নিচ থেকে ফাঁপা ও নলাকার লেজ শুরু হয়, যার শেষ প্রান্তে স্পর্শক তন্তু ও স্পাইক থাকে (উদ্দীপকে লেজের ঊর্ধ্বাংশ দেখানো হয়েছে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-B হলো একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়া কোষের গঠন। কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও উপকারিতা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নাইট্রোজেন সংবন্ধন: বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। Azotobacter, Clostridium ইত্যাদি মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া এবং শিমজাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে বসবাসকারী Rhizobium ব্যাকটেরিয়া সরাসরি নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
২. নাইট্রিফিকেশন: মাটিতে থাকা জৈব পদার্থ পচে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হওয়ার পর Nitrosomonas ব্যাকটেরিয়া তাকে নাইট্রাইট এবং Nitrobacter তাকে নাইট্রেটে রূপান্তরিত করে, যা উদ্ভিদের সহজলভ্য খাদ্য উপাদান।
৩. জৈব সার ও কম্পোস্ট তৈরি: কৃষিজাত বর্জ্য, খড়কুটো, পশুপাখির মলমূত্র ইত্যাদি পচিয়ে দ্রুত উন্নত মানের জৈব সার বা কম্পোস্ট তৈরিতে বিভিন্ন বিয়োজক ব্যাকটেরিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করে।
৪. জৈব বালাইনাশক (Biopesticide) হিসেবে: ক্ষতিকর পতঙ্গ ও পোকা দমনে কিছু ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়। যেমন— Bacillus thuringiensis এর বিষাক্ত প্রোটিন বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিকারক পোকা দমনে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়।
৫. পাটের আঁশ ছাড়ানো: পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর Clostridium ও অন্যান্য পেকটিনোলাইটিক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত পেকটিন ধ্বংস করে আঁশ পৃথক করতে সাহায্য করে, যা কৃষির একটি প্রধান অর্থনৈতিক দিক।
সুতরাং, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সার উৎপাদন এবং ফসল সুরক্ষায় চিত্র-B (ব্যাকটেরিয়া)-এর ভূমিকা কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও