যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

আতিয়ার সাহেব বললেন, "কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।" আতিয়ার সাহেবের কথা শুনে তার বন্ধু আফজাল সাহেব বললেন, "হুমায়ূন আহমেদ একজন নাট্যকার, সদা 'হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী এবং প্রকৃতিপ্রেমী ব্যক্তি ছিলেন।” তাঁদের কথা শুনে জাহিদ সাহেব বললো, "সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।"

  1. ক)

    বিধেয়ক কী?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে কোন ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জাহিদ সাহেবের বক্তব্যে কোন বিধেয়ক নির্দেশিত হয়েছে? তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে আতিয়ার সাহেব ও আফজাল সাহেবের বক্তব্যে নির্দেশিত বিধেয়ক দুটির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের পারস্পরিক সম্পর্ককে বিধেয়ক (Predicable) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো হলো:
    ১. বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ, যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। আর বিধেয়ক হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার সম্বন্ধের রূপ।
    ২. সব যুক্তিবাক্যেই বিধেয় থাকে, কিন্তু কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যেই উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে বিধেয়কের সম্পর্ক থাকে (নঞর্থক বাক্যে বিধেয়ক থাকে না)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাহিদ সাহেবের বক্তব্যটি হলো: "সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।"
    এখানে বিধেয়ক হিসেবে 'উপলক্ষণ' (Proprium) নির্দেশিত হয়েছে।

    ব্যাখ্যা: যে গুণ বা গুণাবলী কোনো পদের আসন্নতম লক্ষণ বা মূল সারসত্তা (আসন্নতম লক্ষণ: বুদ্ধিবৃত্তি) নয়, কিন্তু জাত্যর্থ বা সারসত্তা থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। জীববৃত্তি থাকার কারণে 'মরণশীলতা' মানুষের মধ্যে অনিবার্যভাবে চলে আসে। মরণশীলতা কোনো মৌলিক নতুন লক্ষণ নয়, বরং জীববৃত্তিরই অপরিহার্য ফল। তাই জাহিদ সাহেবের বক্তব্যে 'মরণশীল জীব' বিধেয়টি 'মানুষ' উদ্দেশ্যের সাপেক্ষে একটি উপলক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আতিয়ার সাহেবের বক্তব্যে "হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন" এবং আফজাল সাহেবের বক্তব্যে "হুমায়ূন আহমেদ একজন নাট্যকার, সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী এবং প্রকৃতিপ্রেমী ব্যক্তি ছিলেন" বর্ণিত হয়েছে। এখানে বিধেয়কের 'অবান্তর লক্ষণ' (Accident) নির্দেশিত হয়েছে এবং উভয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

    আতিয়ার সাহেবের বক্তব্যটিতে বিধেয় হিসেবে নির্দিষ্ট জন্মতারিখ উল্লেখ থাকায় এটি 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' (Inseparable personal accident)। কারণ কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ বা জন্মস্থান তার ব্যক্তিগত অপরিহার্য বিষয়, যা কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন বা পৃথক করা যায় না।

    অন্যদিকে, আফজাল সাহেবের বক্তব্যে উল্লেখিত গুণাবলি—যেমন নাট্যকার হওয়া, সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী এবং প্রকৃতিপ্রেমী হওয়া—হলো 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' (Separable personal accident)। কারণ এসব গুণ বা অভ্যাস মানুষের জীবনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে অবিচ্ছেদ্য নয়; মানুষ বিভিন্ন সময় মেজাজ বা পেশা পরিবর্তন করতে পারে এবং এগুলো ব্যক্তির অস্তিত্ব বিনষ্ট না করেও পরিবর্তিত হতে পারে।

    সুতরাং, আতিয়ার সাহেবের বক্তব্যটি অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ নির্দেশ করে, পক্ষান্তরে আফজাল সাহেবের বক্তব্যটি বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন