ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
যুগোশ্লাভিয়ার বসনিয়া-হার্জেগোভিনা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। সংখ্যালঘিষ্ঠ, সার্ব শাসকগোষ্ঠীর নিকট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই শোষিত ও নিষ্পেষিত হয়ে আসছিল বসনীয় জনগোষ্ঠী। ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা তাদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার ডাক দেয়। সার্ব-ক্রোট যৌথশক্তি এ আন্দোলন দমনে গণহত্যা, লুণ্ঠন, নারী ও শিশুদের প্রতি পাশবিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে লক্ষ লোকের আত্মদান ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে বসনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুজিবনগর সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কোন বিশেষ ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত ও পরিচালিত করা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বহির্বিশ্বের সমর্থন ও স্বীকৃতি আদায় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রাখাই ছিল এই অস্থায়ী সরকার গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বঞ্চনা ও নৃশংস গণহত্যার মিল রয়েছে। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায় বসনিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু সার্ব শাসকদের দ্বারা দীর্ঘকাল শোষিত হয়ে স্বাধিকার আন্দোলন শুরু করে এবং এর জবাবে সার্ব-ক্রোট বাহিনী গণহত্যা ও পাশবিক নির্যাতন চালায়, তেমনি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' থেকে শুরু করে নয় মাসব্যাপী বর্বর গণহত্যা, লুণ্ঠন ও নারীনির্যাতন পরিচালনা করে। অতএব, বসনিয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বর্বর গণহত্যার সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের এক অনন্য জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। উদ্দীপকে যেমন সার্বদের দীর্ঘ শোষণ ও নির্যাতনের মুখে বসনীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার ডাক দেয় এবং লক্ষ মানুষের আত্মদান ও নারীদের চরম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও ছিল একই প্রকৃতির। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কেবল কোনো সামরিক যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণযুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনীর সীমাহীন অত্যাচার, লুণ্ঠন এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। সুতরাং, উদ্দীপকটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ, গণপ্রতিরোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রকৃতিকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও