যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. জামিল একজন মনোবিজ্ঞানী। তিনি মানুষের বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত একটি জরিপ করেছেন। এ জন্য তিনি কয়েকজন লম্বা লোককে নিরীক্ষণ করে দেখেন যে, তাদের সকলেরই বুদ্ধি কম। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, লম্বা লোক মাত্রই বুদ্ধি কম।
- ক)(1)
নিরীক্ষণ কী?
- খ)(2)
ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলতে কী বুঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. জামিলের সিদ্ধান্তে নিরীক্ষণের কোন প্রকার অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মি. জামিলের সিদ্ধান্তে যে অনুপপত্তির উদ্ভব হয়েছে তা থেকে উত্তরণের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো বস্তু বা ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত ও সুপরিকল্পিতভাবে প্রত্যক্ষ করাই হলো নিরীক্ষণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো বস্তু বা ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ করার সময় অসাবধানতা, মানসিক পূর্বসংস্কার বা ব্যক্তিগত ত্রুটির কারণে বাস্তব ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রত্যক্ষ না করে ভুলভাবে প্রত্যক্ষ করাকে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ (Mal-observation) বলে। এটি এক ধরনের নিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. জামিলের সিদ্ধান্তে নিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তির অন্তর্গত 'অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি' (Fallacy of Non-observation), বিশেষভাবে 'দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণ' অনুপপত্তি ঘটেছে।
নিরীক্ষণের সময় যেসব প্রয়োজনীয় পারিপার্শ্বিক দৃষ্টান্ত বা ঘটনা প্রত্যক্ষ করা আবশ্যক ছিল, অসাবধানতাবশত বা অন্য কোনো কারণে সেগুলোকে প্রত্যক্ষ না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালে অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটে।
উদ্দীপকে মনোবিজ্ঞানী মি. জামিল মাত্র কয়েকজন লম্বা লোককে নিরীক্ষণ করে দেখতে পান তাদের বুদ্ধি কম এবং এর ওপর ভিত্তি করে ঢালাওভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, 'লম্বা লোক মাত্রই বুদ্ধি কম'। এখানে তিনি অনেক বুদ্ধিমান লম্বা ব্যক্তিদের অস্তিত্ব ও দৃষ্টান্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা বা অনিরীক্ষণ করেছেন। প্রয়োজনীয় ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টান্ত বিচার না করে আংশিক নিরীক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এটি দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. জামিলের সিদ্ধান্তে 'অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি' ঘটেছে। এ ধরনের অনুপপত্তি থেকে উত্তরণের জন্য আরোহ পদ্ধতির বিজ্ঞানসম্মত নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। নিম্নে উত্তরণের উপায়সমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ: কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ না করে বিভিন্ন পরিবেশ, বয়স, লিঙ্গ ও যোগ্যতার যথেষ্টসংখ্যক লম্বা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা উচিত ছিল।
২. ব্যতিরেকী বা বিপরীতমুখী দৃষ্টান্তের অনুসন্ধান: লম্বা অথচ অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সফল ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত বিদ্যমান আছে কি না, তা সচেতনভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কোনো একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত পেলেই সার্বিক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়।
৩. নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা: পর্যবেক্ষণকারীকে ব্যক্তিগত সংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও পক্ষপাতে মুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে।
৪. বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগ: মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে কেবল প্রাকৃতিক অনিয়ন্ত্রিত নিরীক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যথাযথ মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে বুদ্ধি পরিমাপ করা উচিত।
অতএব, সতর্ক পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত ও সার্বিক উপাত্ত সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণই মি. জামিলের সিদ্ধান্তকে ত্রুটিমুক্ত করতে পারত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও