জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    করোটিকা কী?

    (1)
  2. খ)

    ইলিয়াম (Ilium) এবং ইলিয়ামের (Ileum) মধ্যে পার্থক্য লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' এর পেশি টান দেয় কিন্তু ধাক্কা দেয় না কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' এবং 'খ' তে গঠন ও কার্যগত পার্থক্য বিদ্যমান— কথাটি ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করোটিকা (Cranium) হলো মানব খুলির (Skull) যে অংশটি মস্তিষ্ককে সুরক্ষিতভাবে আবৃত করে রাখে। এটি ৮টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইলিয়াম (Ilium) এবং ইলিয়ামের (Ileum) মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
    ১. অঙ্গসংস্থানিক অবস্থান: Ilium হলো মানবদেহের শ্রোণিচক্রের (Pelvic girdle) অংশ এবং এটি একটি অস্থি। অন্যদিকে Ileum হলো পরিপাকতন্ত্রের ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ।
    ২. কাজ: Ilium দেহের ভারসাম্য রক্ষা ও চলনে সহায়তা করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে ভারবহনে সাপোর্ট দেয়। পক্ষান্তরে Ileum মূলত পরিপাকৃত খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও জলীয় অংশ শোষণে অংশ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পেশি কেবল সংকুচিত হয়ে টান প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু প্রসারিত হওয়ার জন্য কোনো সক্রিয় ধাক্কা দিতে পারে না। পেশির কার্যপদ্ধতির মূল নীতি হলো সংকোচন (Contraction)। উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো মসৃণ পেশি বা অনৈচ্ছিক পেশি।

    ১. অ্যাকটিন ও মায়োসিন ফিলামেন্টের স্লাইডিং: পেশিতন্তুর ভেতরে অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিন ফিলামেন্টগুলো সক্রিয় উদ্দীপনার মাধ্যমে পরস্পরের ওপর দিয়ে পিছলে গিয়ে ওভারল্যাপ করে, ফলে পেশি কোষ সংকুচিত হয় এবং প্রান্তে সংযুক্ত তন্তুর ওপর একটি টান (Tension বা Pull) সৃষ্টি হয়।

    ২. সক্রিয় প্রসারণের অক্ষমতা: পেশির কোনো সক্রিয় প্রক্রিয়া বা ধাক্কা দেওয়ার (Pushing) উপাদান থাকে না যার মাধ্যমে তা নিজ শক্তিতে বাইরের দিকে প্রসারিত হয়ে ধাক্কা দিতে পারে।

    ৩. শিথিলায়ন ও বিরোধী বল: পেশি যখন কাজ শেষ করে, তখন তা শিথিল (Relax) হয় এবং বিপরীতমুখী বল বা কোনো এন্টাগোনিস্টিক পেশির টান কিংবা অভ্যন্তরীণ ফ্লুইড প্রেসার/খাদ্যের চাপে এটি পুনরায় আগের দৈর্ঘ্যে ফিরে আসে। তাই বলা হয়, পেশি সর্বদা টান দেয় কিন্তু কখনোই ধাক্কা দিতে পারে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো অনৈচ্ছিক বা মসৃণ পেশি (Smooth muscle) এবং চিত্র 'খ' হলো হৃৎপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle)। এদের মধ্যে গঠন ও কার্যগত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:

    ১. গঠনগত পার্থক্য:

    • কোষের আকৃতি: চিত্র 'ক' (মসৃণ পেশি)-এর কোষগুলো মাকু আকৃতির (উভয় প্রান্ত সূঁচালো ও মধ্যভাগ চওড়া)। অন্যদিকে চিত্র 'খ' (হৃৎপেশি)-এর কোষগুলো বেলনাকার বা চোঙাকৃতির এবং শাখান্বিত।
    • নিউক্লিয়াস: মসৃণ পেশির প্রতিটি কোষে একটি করে ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে থাকে। হৃৎপেশি কোষেও সাধারণত একটি (বা দুটি) নিউক্লিয়াস থাকে, তবে কোষগুলো শাখান্বিত জালক সৃষ্টি করে।
    • আড়াআড়ি রেখা (Striation): মসৃণ পেশিতে কোনো আড়াআড়ি ডোরাকাটা রেখা বা স্ট্রাইপ থাকে না (অরেখ পেশি)। হৃৎপেশিতে সুস্পষ্ট আড়াআড়ি রেখা বিদ্যমান।
    • ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক: চিত্র 'ক'-তে কোনো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক নেই। কিন্তু চিত্র 'খ'-তে সংলগ্ন কোষগুলোর সংযোগস্থলে সুস্পষ্ট ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে।
    • সারকোলেমা: মসৃণ পেশির সারকোলেমা অস্পষ্ট, কিন্তু হৃৎপেশির সারকোলেমা তুলনামূলক পাতলা ও স্পষ্ট।

    ২. কার্যগত পার্থক্য:

    • নিয়ন্ত্রণ: উভয় পেশিই অনৈচ্ছিক হলেও এদের কার্যাবলির ছন্দময়তা ভিন্ন। মসৃণ পেশির সংকোচন-প্রসারণ তুলনামূলকভাবে ধীর ও দীর্ঘস্থায়ী। হৃৎপেশির সংকোচন-প্রসারণ অত্যন্ত দ্রুত, শক্তিশালী ও অবিরাম ছন্দময় (Rhythmic)।
    • অবস্থান ও ভূমিকা: মসৃণ পেশি রক্তনালি, পৌষ্টিকনালি, শ্বাসনালি, জরায়ু ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ ফাঁপা অঙ্গের প্রাচীরে থাকে এবং পেরিস্টালসিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। হৃৎপেশি কেবল হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে (মায়োকার্ডিয়াম) থাকে এবং রক্ত সংবহনের প্রধান পাম্পিং কাজ আজীবন অবিশ্রান্তভাবে সম্পন্ন করে।

    অতএব, উদ্দীপকের 'ক' এবং 'খ' উভয় অনৈচ্ছিক প্রকৃতির হলেও তাদের গঠন এবং কাজের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন