অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'A' দেশের সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫০% এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা নিয়ে এবং অবশিষ্ট ৫০% ব্যয় সরকারি বন্ড, ঋণপত্র, সঞ্চয়পত্র বিক্রি এবং বন্ধু রাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে মিটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    আয়কর কী?

    (1)
  2. খ)

    মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ঋণের উৎসগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসসমূহ চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারি ঋণের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের মধ্যে কোনটি 'A' দেশের জন্য মঙ্গলজনক উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত বাধ্যতামূলক প্রত্যক্ষ করকে আয়কর বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্য সংযোজন কর (মূসক/VAT) একটি পরোক্ষ কর, কারণ এই কর উৎপাদনের বা বিক্রয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে ধার্য করা হলেও করদাতা এর প্রকৃত বোঝা চূড়ান্ত ভোক্তাদের ওপর স্থানান্তরিত করতে পারে। করের প্রাথমিক ঘাত ও চূড়ান্ত চাপ ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে বলেই এটি পরোক্ষ কর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত ঋণের উৎসগুলোকে নিম্নোক্তভাবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসে চিহ্নিত করা হলো:

    ১. অভ্যন্তরীণ উৎসসমূহ:

    • সরকারি বন্ড বিক্রি
    • ঋণপত্র (Treasury Bills/Bonds) বিক্রি
    • সঞ্চয়পত্র বিক্রি
      (এগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নাগরিক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে সংগৃহীত অর্থ)।

    ২. বৈদেশিক উৎসসমূহ:

    • এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) থেকে ঋণ সহায়তা
    • বিশ্বব্যাংক (World Bank) থেকে ঋণ সহায়তা
    • বন্ধু রাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য 'A' দেশের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় প্রকার ঋণের ভূমিকা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস তুলনামূলকভাবে বেশি মঙ্গলজনক, তবে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এদের ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণও আবশ্যক।

    অভ্যন্তরীণ ঋণ বেশি মঙ্গলজনক হওয়ার কারণসমূহ:
    ১. বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ঝুঁকি থাকে। অভ্যন্তরীণ ঋণে তা থাকে না।
    ২. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধু রাষ্ট্র থেকে ঋণ গ্রহণের সাথে নানাবিধ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত যুক্ত থাকে, যা দেশের নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
    ৩. অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ দেশের অভ্যন্তরেই প্রবাহিত হয়, ফলে জাতীয় সম্পদ বাইরে চলে যায় না।

    তবে মেট্রোরেলের মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সম্পূর্ণ ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। উদ্দীপকে ৫০% বৈদেশিক ও ৫০% অভ্যন্তরীণ ঋণের যে অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণের একক চাপ কমাতে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সার্বিক বিবেচনায়, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রিজার্ভ সুরক্ষার স্বার্থে অভ্যন্তরীণ ঋণ অধিক মঙ্গলজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন