জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    উপযোজন কি?

    (1)
  2. খ)

    লাইগেশন কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    'Q' প্রক্রিয়ার বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    R এর পরিস্ফুটনে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর সৃষ্টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া -বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চোখের যে বিশেষ ক্ষমতার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব নির্বিশেষে অক্ষিগোলকের কোনো স্থান পরিবর্তন না করে সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে রেটিনায় লক্ষ্যবস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করা যায়, তাকে চোখের উপযোজন (Accommodation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাইগেশন বা টিউবেকটমি হলো মহিলাদের ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।

    এ পদ্ধতিতে মহিলাদের উদরীয় প্রাচীরের সামান্য অংশ কেটে দুই পাশের ফ্যালোপিয়ান নালি (ডিম্বনালি) কেটে বা বেঁধে দেয়া হয়। এর ফলে ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ডিম্বাণু জরায়ু বা অ্যাম্পুলায় শুক্রাণুর সংস্পর্শে আসতে পারে না। ফলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন বা নিষেক বন্ধ হয়ে যায় এবং গর্ভধারণ প্রতিহত হয়। মূলত অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ রোধ এবং স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে লাইগেশন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'Q' প্রক্রিয়াটি হলো ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া, যাকে উওজেনেসিস (Oogenesis) বলা হয়। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:

    উওজেনেসিস প্রক্রিয়াটি প্রধানত তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:

    ১. সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায় (Multiplication phase): স্ত্রী প্রাণীর ডিম্বাশয়ের জার্মিনাল এপিথেলিয়ামের আদি জননকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বারবার বিভাজিত হয়ে অসংখ্য ডিপ্লয়েড (2n) উওগোনিয়া (Oogonia) তৈরি করে।

    ২. বৃদ্ধিপর্ব (Growth phase): প্রতিটি উওগোনিয়াম খাদ্য সঞ্চয় করে আকারে বৃদ্ধি পায় এবং নিষ্ক্রিয় দশায় পৌঁছায়। এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কোষকে প্রাইমারি উওসাইট (Primary oocyte, 2n) বলে।

    ৩. পূর্ণতাপ্রাপ্তি পর্যায় (Maturation phase):

    • প্রাইমারি উওসাইটে প্রথম মায়োসিস বিভাজন (হ্রাসমূলক বিভাজন) ঘটে। এই বিভাজনে অসম সাইটোপ্লাজমীয় বিভাজন বা সাইটোকাইনেসিস ঘটে, যার ফলে একটি বড় আকারের হ্যাপ্লয়েড (n) সেকেন্ডারি উওসাইট এবং একটি অতি ক্ষুদ্র প্রথম পোলার বডি (Polar body, n) সৃষ্টি হয়।
    • পরবর্তীতে সেকেন্ডারি উওসাইটে দ্বিতীয় মায়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হয়। এর ফলে অসম বিভাজনের মাধ্যমে একটি বড় কার্যকরী উওটিড (Ootid, n) এবং একটি দ্বিতীয় পোলার বডি (n) তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রথম পোলার বডিটিও বিভাজিত হয়ে দুটি পোলার বডি তৈরি করতে পারে।
    • পরিশেষে উওটিডটি রূপান্তরের মাধ্যমে একটি কার্যকর হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণুতে (Ovum) পরিণত হয় এবং তিনটি পোলার বডি সাধারণত নষ্ট হয়ে যায়।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে সৃষ্ট 'R' হলো জাইগোট (Zygote)। জাইগোটের পরিস্ফুটনের মাধ্যমেই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ধারাবাহিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়:

    ১. ক্লিভেজ (Cleavage): নিষেকের পরপরই এককোষী ডিপ্লয়েড জাইগোটে মাইটোসিস প্রকৃতির বিশেষ কোষ বিভাজন শুরু হয়, যাকে ক্লিভেজ বলে। ক্লিভেজের ফলে সৃষ্ট কোষগুলোকে ব্লাস্টোমিয়ার বলে। ক্রমাগত বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬-৩২ কোষবিশিষ্ট একটি নিরেট কোষপিণ্ডে পরিণত হয়, যাকে মরুলা (Morula) বলে।

    ২. ব্লাস্টুলেশন (Blastulation): মরুলা দশার কোষগুলোর মধ্যে তরল জমা হতে থাকে এবং তরলপূর্ণ গহ্বরযুক্ত একটি ফাঁপা বলের মতো দশার সৃষ্টি হয়, যাকে ব্লাস্টুলা বা মানুষের ক্ষেত্রে ব্লাস্টোসিস্ট বলা হয়। এর ভেতরের তরলপূর্ণ গহ্বরকে ব্লাস্টোসিল এবং বাইরের কোষীয় স্তরকে ট্রফোব্লাস্ট বা ট্রফেক্টোডার্ম বলে। পরবর্তীতে এটি জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রতিস্থাপিত (ইমপ্লান্টেশন) হয়।

    ৩. গ্যাস্ট্রুলেশন (Gastrulation): ব্লাস্টুলা থেকে কোষীয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দ্বিস্তরবিশিষ্ট বা ত্রিস্তরবিশিষ্ট ভ্রূণীয় দশায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে গ্যাস্ট্রুলেশন বলে। এর ফলে ভ্রূণে তিনটি প্রাথমিক জননস্তর গঠিত হয়— এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম এবং এন্ডোডার্ম।

    ৪. অঙ্গজনন (Organogenesis): তিনটি প্রাথমিক জননস্তরের কোষগুলো বিভাজিত, রূপান্তরিত ও বিশেষায়িত হয়ে ভ্রূণের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন করে। যেমন:

    • এক্টোডার্ম থেকে স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক ও চোখ;
    • মেসোডার্ম থেকে পেশিতন্ত্র, কঙ্কালতন্ত্র, সংবহনতন্ত্র ও রেচনতন্ত্র;
    • এন্ডোডার্ম থেকে পৌষ্টিকতন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ অংশ গঠিত হয়।

    অঙ্গ গঠনের পর ভ্রূণটি নির্দিষ্ট বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটন শেষে গর্ভকালীন সময় অতিক্রম করে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হিসেবে জন্মলাভ করে।

    অতএব, দেখা যায় যে জাইগোট (R) থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্লিভেজ, ব্লাস্টুলেশন, গ্যাস্ট্রুলেশন ও অঙ্গজননের মতো ধারাবাহিক পরিবর্তনের এক সুশৃঙ্খল ফল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন