সাহিত্য পাঠ • স্বদেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
“আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে- এই বাংলায়হয়তো মানুষ নয়-হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে………………………………………………………………….. আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসেজলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায় ।হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে।হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে। ”
- ক)(1)
জলের দেবী কে?
- খ)(2)
“সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ”- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শেষ চার চরণের সাথে ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত কবির এই বাংলায় ফিরে আসার যে আকুলতা তার যথার্থ উত্তর বিধৃত হয়েছে ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায়— মন্তব্যটির পক্ষে অথবা বিপক্ষে তোমার মতামত উপস্থাপন।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলের দেবী হলেন শঙ্খমালা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণে কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রত্যুষের আকাশের লালচে আভার সাথে নাটাকণ্ঠী ফলের বীজের উজ্জ্বল রঙের তুলনা করেছেন।
কবি বাংলার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরতে গিয়ে ভোরের আকাশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নাটা এক প্রকার লতানে উদ্ভিদের ফল, যার ভেতরের রং অত্যন্ত উজ্জ্বল লাল। ভোরের পূর্বাকাশে উদীয়মান সূর্যের রক্তিম আভা যখন মেঘের গায়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা কবির কাছে নাটার উজ্জ্বল রঙের মতো দৃষ্টিনন্দন মনে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ চার চরণের সাথে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার বাংলার পল্লী প্রকৃতির নিসর্গশোভা ও চিরায়ত চিত্ররূপ ফুটিয়ে তোলার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের অংশে সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন পোকার ওড়া এবং শিমুল গাছের ডালে লক্ষ্মীপেঁচার ডাকের মতো চিরচেনা গ্রামীণ অনুষঙ্গ চিত্রিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি কবির গভীর মমতা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতাতেও কবি জীবনানন্দ দাশ একইভাবে বাংলার শ্যামল প্রকৃতি, সন্ধ্যার মৃদু বাতাস, পাখির কলকাকলি এবং গাছপালার অনন্য সৌন্দর্যের চিত্রকল্প তুলে ধরেছেন। উভয় রচনাতেই বাংলার স্নিগ্ধ ও শান্ত প্রকৃতির রূপময় অনুষঙ্গ নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে, যা গভীর ভাবগত সাদৃশ্য সৃষ্টি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মন্তব্যটি যথার্থ; উদ্দীপকে কবির বাংলায় ফিরে আসার যে তীব্র আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ও গভীর কারণ বিধৃত হয়েছে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায়।
উদ্দীপকে কবি জীবনানন্দ দাশের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে কবি রূপসী বাংলার নদী, মাঠ ও নিসর্গের প্রেমে মগ্ন হয়ে বারবার কোনো না কোনো বেশে এই বাংলায় ফিরে আসার ব্যাকুল বাসনা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় কবি সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন যে কেন তিনি বারংবার এই বাংলায় ফিরতে চান। কারণ এ পৃথিবীর বুকে বাংলার চেয়ে রূপসী, শান্ত ও মধুরতম স্থান আর কোথাও নেই। এখানকার নরম বাতাস, নাটার মতো লাল ভোরের আকাশ, কাঁঠাল-হিজল-অশ্বত্থের ছায়াঘেরা সবুজ প্রান্তর পৃথিবীর অন্য সব সৌন্দর্যের ঊর্ধ্বে। এই বাংলার রূপই কবিকে মোহাবিষ্ট করে রাখে।
অতএব, উদ্দীপকে প্রকাশিত ফিরে আসার তীব্র আকুলতার মূল ভিত্তি ও নান্দনিক ব্যাখ্যা যে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় অপরূপভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা নিঃসংশয়ে বলা যায়। তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও