সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
আধুনিক সভ্যতার বিকাশে পর্যায়ক্রমে ঘটে যাওয়া শিল্প বিপ্লব মানুষকে যেমন দিয়েছে প্রাচুর্য ও বিলাসিতা, তেমনি দিয়েছে আকস্মিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা। এরূপ আর্থসামাজিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য যথাযথ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গহীত হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যেমন- পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, দুর্ঘটনা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা ইত্যাদি।
- ক)(1)
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
- খ)(2)
বায়তুল মাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাসমূহ সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, সমাজ জীবনের আকস্মিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গৃহীত ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া বা পরিচ্ছন্নতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়তুল মাল হলো ইসলামী অর্থনৈতিক ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রীয় বা সরকারি কোষাগার। ইসলামি রাষ্ট্রের সকল বৈধ রাজস্ব, যেমন—যাকাত, জিজিয়া, খারাজ, উশর, গণিমতের মাল এবং অন্যান্য সম্পদ বায়তুল মালে জমা করা হতো। সেখান থেকে গরিব, অসহায়, দুস্থ, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক সার্বিক খাতে অর্থ ব্যয় করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, দুর্ঘটনা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা ইত্যাদি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাসমূহ সমাজকর্মের 'সামাজিক নিরাপত্তা' (Social Security) প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক নিরাপত্তা হলো রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত এমন সব প্রতিরক্ষামূলক ও আর্থিক কার্যক্রম, যা নাগরিকদের আকস্মিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব বা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর মৃত্যুজনিত কারণে জীবনযাত্রার মানের অবনতি ঠেকাতে এবং অর্থনৈতিক সংকটের হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এটি মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত: সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং সমাজসেবা। উদ্দীপকের পেনশন, ভবিষ্যৎ তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড), মাতৃত্ব ভাতা এবং দুর্ঘটনা ভাতা মূলত সামাজিক বীমা ও সামাজিক সাহায্যের আওতাভুক্ত সামাজিক নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি সমাজ জীবনের আকস্মিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
শিল্প বিপ্লবের পর আধুনিক জটিল সমাজব্যবস্থায় মানুষের জীবনে বহুমুখী ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিল্প দুর্ঘটনা, কর্মহীনতা, অসুস্থতা বা বয়োবৃদ্ধাবস্থায় একজন মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারে। এরূপ বিপর্যয় মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিম্নোক্ত কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ: আয়ের পথ সাময়িক বা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলেও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যক্তির মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে।
২. মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস: দুর্ঘটনা বা ভবিষ্যৎ বিপদে পেনসন, বীমা বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নিশ্চয়তা শ্রমিক ও কর্মজীবীদের মাঝে ভবিষ্যৎ ভীতি দূর করে কর্মস্পৃহা বাড়ায়।
৩. সামাজিক অসমতা ও দারিদ্র্য হ্রাস: বিভিন্ন ভাতা ও তহবিল দরিদ্র ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভাঙতে ভূমিকা রাখে।
৪. মানবসম্পদের মর্যাদা ও স্থায়িত্ব রক্ষা: মাতৃত্ব ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ইত্যাদি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সার্বিক সুস্থতা ও বিকাশ রক্ষা করে।অতএব, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে এবং সমাজকে হঠাৎ নেমে আসা বিপর্যয় ও নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও