বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিঃসন্তান সৌদামিনী মালো দুর্ভিক্ষে মৃত এক মুসলমান কৃষক পরিবারের অসহায়শিশু পুত্রকে মাতৃস্নেহে বুকে তুলে নেয়। শিশুর নাম দেয় হরিদাস। বড় হয়ে হরিদাস যখন জানতে পারে সে মুসলমানের ছেলে তখন সে সৌদামিনীকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। হরিদাসকে হারিয়ে সৌদামিনীর মাতৃহৃদয় হাহাকার করে ওঠে। ধর্ম, বর্ণ, অর্থ এসব কিছুর ঊর্ধ্বে মাতৃত্ব। শওকত ওসমানের' সৌদামিনী মালো' ছোটগল্পটিতে এভাবে মানবতার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে।
- ক)(1)
আহ্বান' গল্পের বুড়িকে কে মা বলে ডাকে?
- খ)(2)
"আমার মন হয়তো ওর ডাক এবার আর তাচ্ছিল্য করতে পারেনি"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সৌদামিনী মালো' গল্পটির সাথে 'আহ্বান' গল্পের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মূলবক্তব্য 'আহ্বান' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আহ্বান' গল্পের বুড়িকে গোপাল (গল্পের কথক) 'মা' বলে ডাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা বুড়ির অকৃত্রিম ও গভীর মাতৃস্নেহের কাছে কথকের হৃদয় বিগলিত হওয়া এবং বুড়ির প্রতি অন্তরের টান অগ্রাহ্য করতে না পারাকে বোঝানো হয়েছে।
'আহ্বান' গল্পের কথক শহরের কর্মব্যস্ত মানুষ। গ্রামে এলে এক বৃদ্ধা বুড়ি তাঁর সাথে স্নেহের সম্পর্ক পাতিয়েছিল। প্রথমে বুড়ির এই অতিরিক্ত আগ্রহকে কথক সাধারণ কৌতূহল বা কিছুটা তাচ্ছিল্যভরে দেখলেও, পরবর্তীতে বুড়ির নিঃস্বার্থ ও পবিত্র মাতৃস্নেহ তাঁর অন্তরকে নাড়া দেয়। বুড়ির স্নেহের নিখাদ আন্তরিকতা বুঝতে পেরে কথক আর উদাসীন থাকতে পারেননি, বরং বুড়ির ডাকে অন্তরের ভালোবাসা দিয়েই সাড়া দিয়েছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'সৌদামিনী মালো' গল্পের সাথে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আহ্বান' গল্পের ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে নিঃস্বার্থ মানবিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য এবং সম্পর্কের পরিণতিতে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
সাদৃশ্যগত দিক থেকে, উভয় গল্পেই ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবধানকে অতিক্রম করে অকৃত্রিম মাতৃত্ব ও মানবিক মমত্ববোধ প্রধান হয়ে উঠেছে। 'আহ্বান' গল্পে মুসলমান বুড়ি হিন্দু সন্তান গোপালকে অপত্য স্নেহে আপন করে নিয়েছিল। একইভাবে উদ্দীপকের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিঃসন্তান সৌদামিনী মালো দুর্ভিক্ষে অনাথ হওয়া মুসলমান কৃষকপুত্র হরিদাসকে মাতৃস্নেহে বড় করে তোলে।
বৈসাদৃশ্যগত দিক হলো, উদ্দীপকের হরিদাস বড় হয়ে নিজের আসল ধর্ম পরিচয় জানতে পেরে সৌদামিনীকে ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং সৌদামিনীর মাতৃহৃদয়কে গভীর বেদনায় নিমজ্জিত করে। পক্ষান্তরে 'আহ্বান' গল্পে গোপাল কখনোই বুড়িকে তাচ্ছিল্য বা পরিত্যাগ করেনি; বরং বারবার ফিরে এসেছে, বুড়ির অন্তিম শয্যা ও কবরে মাটি দেওয়ার কাজে শামিল হয়ে গভীর মানবিক দায়বদ্ধতা ও স্নেহের প্রতিদান দিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মূল বক্তব্য হলো— "ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয় সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা ও মাতৃত্বের বন্ধন", যা 'আহ্বান' গল্পের মূল প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণ।
'আহ্বান' গল্পে দেখা যায়, বয়োবৃদ্ধা দরিদ্র মুসলিম বুড়ি এবং শহরের শিক্ষিত উচ্চবর্ণের হিন্দু যুবক গোপালের মধ্যে কোনো রক্ত বা ধর্মের সম্পর্ক ছিল না। তা সত্ত্বেও বুড়ির স্নেহশীল হৃদয় গোপালকে পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরে এবং গোপালও বুড়িকে মায়ের মর্যাদায় আসীন করে। তাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল পবিত্র মানবতাবোধ ও হৃদয়িক টান। এমনকি বুড়ির মৃত্যুর পর গোপাল নিজে উপস্থিত থেকে তাঁর কবরে মাটি দিয়ে সেই অপার্থিব ভালোবাসার স্বীকৃতি দেয়।
উদ্দীপকের 'সৌদামিনী মালো' গল্পেও দেখা যায়, দুর্ভিক্ষে অনাথ হওয়া মুসলিম শিশুকে পরম মমতায় নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করে হিন্দু নারী সৌদামিনী। যদিও হরিদাস ধর্মান্ধতা ও সামাজিক সংকীর্ণতার কারণে সৌদামিনীকে ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু সৌদামিনীর মাতৃহৃদয়ের হাহাকার প্রমাণ করে যে মাতৃত্ব কোনো কৃত্রিম ধর্মীয় পরিচয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।
সুতরাং, উদ্দীপক ও 'আহ্বান' গল্প উভয়ই তুলে ধরে যে জাত-পাত, ধর্ম বা সামাজিক ভেদাভেদ মানুষের তৈরি কৃত্রিম প্রাচীর মাত্র। মানুষের অন্তরের স্নেহ, ভালোবাসা ও মাতৃত্ব চিরন্তন এবং সর্বজনীন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূল বক্তব্যটি 'আহ্বান' গল্পের আলোকে সম্পূর্ণ তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও