ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
কৃষ্ণচূড়া গ্রামের সাধারণ জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন। এ সমিতির একজন সদস্য জনাব জাকির অর্জিত মুনাফা হাজার টাকা করে প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার প্রস্তাব পেশ করেন।
- ক)(1)
প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠনে ন্যূনতম কতজন সদস্য থাকতে হয়?
- খ)(2)
সমবায়ের উপবিধি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষ্ণচূড়া গ্রামে জেলেরা প্রকৃতিভিত্তিক কোন ধরনের সমবায় সমিতি গঠন করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব জাকির কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী একটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠনে ন্যূনতম ২০ জন একক ব্যক্তি সদস্য থাকতে হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায়ের উপবিধি হলো সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় নিয়ম-কানুন সংবলিত দলিল।
একটি সমবায় সমিতি কীভাবে পরিচালিত হবে, এর সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য, পরিচালনা পরিষদের গঠন, মূলধন সংগ্রহ ও মুনাফা বণ্টন ইত্যাদি বিস্তারিত দিকনির্দেশনা উপবিধিতে লিপিবদ্ধ থাকে। এটি সমবায় সমিতির নিজস্ব সংবিধান হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষ্ণচূড়া গ্রামের জেলেরা প্রকৃতিভিত্তিক 'মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি' গঠন করেছে।
একই পেশা বা জীবিকায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যে সমবায় সমিতি গড়ে তোলে, তাকে পেশাভিত্তিক বা সংশ্লিষ্ট প্রকৃতিভিত্তিক সমবায় সমিতি বলে। এ জাতীয় সমিতি মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রেহাই পেতে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষ্ণচূড়া গ্রামের সাধারণ জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেছেন। যেহেতু সদস্যরা সবাই একই পেশার (জেলে বা মৎস্যজীবী) মানুষ এবং তাদের উদ্দেশ্য মৎস্য শিকারের মাধ্যমে অর্জিত মাছের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সেহেতু এটি একটি প্রকৃতিভিত্তিক মৎস্যজীবী বা উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব জাকির কর্তৃক উত্থাপিত অর্জিত মুনাফা সমহারে (মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে) বণ্টন করে দেয়ার প্রস্তাবটি সমবায় আইনের দৃষ্টিতে যৌক্তিক নয়।
বাংলাদেশের সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, সমিতির অর্জিত নীট মুনাফার পুরোটাই সদস্যদের মাঝে বণ্টন করা যায় না এবং বণ্টনযোগ্য অংশও সবার মাঝে সমানভাবে বিলি করা যায় না। আইনের বিধান অনুযায়ী, নীট মুনাফার কমপক্ষে ১৫% সংরক্ষিত তহবিলে এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে স্থানান্তর করা বাধ্যতামূলক। অবশিষ্ট মুনাফা সদস্যদের শেয়ার মূলধনের অনুপাত বা কার্যভিত্তিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব জাকির অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা কোনো তহবিল সংরক্ষণ ছাড়াই প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে সমহারে (হাজার টাকা করে) বণ্টন করার প্রস্তাব দেন। এটি সমবায় আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। সমবায়ের অর্জিত মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা ও সমিতির আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করার জন্য বিভিন্ন তহবিলে রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া মুনাফার অবশিষ্ট অংশ সদস্যদের ক্রয়কৃত শেয়ার বা অবদান অনুযায়ী বণ্টন হওয়া উচিত, সমান হারে নয়।
সুতরাং, জনাব জাকিরের উত্থাপিত প্রস্তাবটি সমবায়ের মূলনীতি ও সমবায় আইনপরিপন্থী হওয়ায় তা মোটেই যৌক্তিক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও