ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রুম্মান তার আরো পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে "সঞ্চয়" নামের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠার লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্মারকলিপি তৈরি করলেও কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল-১ কে পরিমেল নিয়মাবলী হিসেবে গ্রহণ করে। সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রকল্প অর্থের জন্য জনসাধারণের শেয়ার ছাড়ার কথা চিন্তা করছেন।যেখানে জনগণের মালিকানা গ্রহণের সুযোগ থাকবে এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের ব্যবস্থা হবে। দুই মাসের মধ্যে তারা বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
- ক)(1)
স্মারকলিপি কি?
- খ)(2)
ঋণপত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানির ধরন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংগঠনটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মারকলিপি বা পরিমেল বন্ধ হলো কোম্পানির মূল বা প্রধান দলিল, যাতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন ও দায়সহ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঋণপত্র (Debenture) হলো কোম্পানি কর্তৃক জনসাধারণের নিকট থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইস্যুকৃত একটি প্রামাণ্য দলিল বা স্বীকৃতিপত্র।
কোম্পানি যখন জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন হিসেবে ঋণ গ্রহণ করে, তখন নির্দিষ্ট সুদের হার, সুদের প্রদানের সময় এবং মূল অর্থ ফেরতের শর্তাবলি উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদের যে আনুষ্ঠানিক লিখিত স্বীকৃতি প্রদান করে, তাকে ঋণপত্র বলে। ঋণপত্রধারীরা কোম্পানির পাওনাদার হিসেবে বিবেচিত হন এবং তারা কোনো ভোটাধিকার পান না, তবে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ পেয়ে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাথমিক পর্যায়ের কোম্পানিটি হলো একটি 'পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি'।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ স্মারকলিপিতে উল্লিখিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। আইনানুযায়ী, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলী তৈরি না করে কোম্পানি আইনের তফসিল-১ কে বিকল্প পরিমেল নিয়মাবলী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব রুম্মান তার আরও পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে অর্থাৎ মোট ৬ জন নয়, বরং বাক্যটিতে 'তার আরও পাঁচ বন্ধু' মোট সদস্য সংখ্যা ও পরিমেল নিয়মাবলীর প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে। তবে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হলো প্রতিষ্ঠানটি স্মারকলিপি তৈরি করলেও 'কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল-১ কে পরিমেল নিয়মাবলী হিসেবে গ্রহণ করে'। কোম্পানি আইন অনুযায়ী কেবল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিই তফসিল-১ গ্রহণ করতে পারে (প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলী তৈরি বাধ্যতামূলক)। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ছিল, যা পরবর্তীতে বাজারে শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংগঠনটি হলো পূর্ণাঙ্গ কার্যকর ও শেয়ার ছাড়তে সক্ষম একটি বৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম।
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে এবং বৃহৎ আকারে আত্মপ্রকাশ করে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মূলধন গঠন: জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও অলস সঞ্চয় শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে একত্রিত করে বড় ধরনের ফলপ্রসূ বিনিয়োগে রূপান্তর করে, যা দেশের মূলধন গঠনে গতি আনে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বৃহৎ আয়তনের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক।
৩. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃহৎ আকারের উৎপাদনের সুযোগ নিয়ে দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
৪. সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি: প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা এবং কর্মীদের কর থেকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পায়, যা জাতীয় বাজেটে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৫. জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বৃহৎ শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বাড়ে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পেয়ে দেশীয় অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয়।পরিশেষে বলা যায়, জনসাধারণের অংশীদারিত্ব নিয়ে গড়ে ওঠা উদ্দীপকের এই বৃহৎ সংগঠনটি মূলধন সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও