পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
X নামক রাষ্ট্রের সরকার মাত্র পাঁচ ভাগ লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জনগণ আন্দোলনে নামে। বেশ কয়জন যুবক বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
১৯৫৬ সালের সংবিধানের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনে সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা: রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান' নামে ঘোষণা করা হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে মুসলমান হওয়ার শর্ত রাখা হয়।
২. রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ: বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫২ সালের 'ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭.২% (কিংবা পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান শাসকগোষ্ঠীর ভাষা) মানুষের ভাষা উর্দুকে যখন সমগ্র পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়, তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ (প্রায় ৫৬%) বাঙালি জনগোষ্ঠী এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায় একটি রাষ্ট্রের মাত্র ৫% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করায় জনগণ রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করেছে, তেমনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভেঙে মাতৃভাষার মর্যাদার দাবিতে রাজপথে নেমে আসে এবং সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাই উদ্দীপকটি ভাষা আন্দোলনের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলন প্রাথমিকভাবে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও এটি ছিল বাঙালির সামগ্রিক জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিপ্রস্তর।
বিশ্লেষণ: ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সাহিত্য ও ভাষার ওপর আঘাত হানে, তখন বাঙালি সমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে সোচ্চার হয়। কিন্তু এ আন্দোলন কেবল ভাষার স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি বাঙালির স্বাধিকার চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা জোগায়। ১৯৫২ সালের রক্তদান বাঙালিকে উপলব্ধি করায় যে পশ্চিমা শাসকদের অধীনে তাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিরাপদ নয়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
অতএব, উদ্দীপকের আন্দোলনটি রূপে সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলেও এর গভীর প্রভাব ছিল রাজনৈতিক মুক্তির মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও