ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মামুন সাহেব বাংলাদেশে ৩ কেজি গম কিনতে ৭৮ টাকা খরচ করেন। ঠিক একই মানের ৩ কেজি গম কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রবাসী ভাই খরচ করেন ১ ডলার। এক্ষেত্রে টাকা ও ডলারের বিনিময় হার ৭৮ : ১। অপরদিকে নিচের চিত্রের মাধ্যমেও বিনিময় হার নির্ধারণ দেখানো যায় :
- ক)(1)
ফোরফেটিং কী?
- খ)(2)
রেমিটেন্স বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রে বিনিময় হার নির্ধারণের কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর বলে তুমি মনে করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রপ্তানিকারকের মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্য বিল বা ঋণপত্র কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়মুক্ত শর্তে (without recourse) বাট্টাকরণ বা ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থায়নের পদ্ধতিকে ফোরফেটিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রবাসী কর্মীরা বিদেশে কর্মরত অবস্থায় উপার্জিত অর্থের যে অংশ তাদের নিজ দেশের পরিবার-পরিজন বা স্বদেশে ব্যাংকিং ও বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরণ করেন, তাকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বলে। রেমিট্যান্স একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব' (Demand and Supply Theory) বা বাজারভিত্তিক ভারসাম্য পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।
তত্ত্ব অনুযায়ী, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX) বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে (OY) বিনিময় হার নির্দেশ করা হয়েছে।
চিত্রে DD1 হলো বৈদেশিক মুদ্রার নিম্নগামী চাহিদা রেখা এবং SS1 হলো ঊর্ধ্বগামী যোগান রেখা। রেখা দুটি পরস্পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছেদ করায় ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকের চিত্রে সরকারি কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাজার শক্তির ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারণ দেখানো হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে দুটি পদ্ধতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—প্রথমটি 'ক্রয়ক্ষমতা সমতা তত্ত্ব' (Purchasing Power Parity Theory) এবং দ্বিতীয়টি চিত্রে প্রদর্শিত 'চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব' (Demand and Supply Theory)। এ দুটির মধ্যে 'চাহিদা ও যোগান পদ্ধতি' বেশি কার্যকর বলে আমি মনে করি।
প্রথম পদ্ধতিতে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের খরচের অনুপাত (৭৮ টাকা = ১ ডলার) দ্বারা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পরিবহন খরচ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, পণ্যের মানের ভিন্নতা এবং ফটকা লেনদেনের কারণে সবসময় ক্রয়ক্ষমতা সমতা বজায় থাকে না। ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা দিকনির্দেশনা দিলেও দৈনন্দিন বিনিময় হার নির্ধারণে অত্যন্ত জটিল ও কম বাস্তবসম্মত।
অন্যদিকে, চিত্রে প্রদর্শিত চাহিদা ও যোগান পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার মোট চাহিদা (আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি) এবং মোট যোগান (রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ইত্যাদি)-এর ঘাত-প্রতিঘাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজারভিত্তিক সঠিক ও বাস্তবসম্মত বিনিময় হার নির্ধারিত হয়। বিশ্ববাণিজ্যের গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সাথে এ পদ্ধতি তাৎক্ষণিকভাবে সমন্বয় সাধন করতে পারে।
অতএব, আধুনিক মুক্তবাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতায় চাহিদা ও যোগান তত্ত্বের ভিত্তিতে বিনিময় হার নির্ধারণই সর্বাধিক কার্যকর ও উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও