ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. রাউফ শহরতলীতে একটি পলিথিন উৎপাদনে কারখানা স্থাপন করেছেন। তিনি পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, এই পলিথিন দ্রব্য ব্যবহারে মাটির উর্বরতা যেমন হ্রাস পায় তেমনি বায়ু দূষিত হয়। এই অবস্থা হতে পরিবেশকে রক্ষা করতে সরকার জেল জরিমানা আইন প্রণয়ন করেছেন এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচি ও গ্রহণ করেছেন।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কি?

    (1)
  2. খ)

    CSR - এর ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. রউফ সমাজের কোন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব অবহেলা করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "গণসচেতনতাই পারে পলিথিন ব্যবহার ও উৎপাদন বন্ধ করতে"- তুমি কি তাই মনে করো? তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী বিশ্বাস, নীতি এবং ভালো-মন্দের মধ্যকার মানদণ্ডকে মূল্যবোধ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    CSR-এর পূর্ণরূপ হলো Corporate Social Responsibility বা প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত না হয়ে সমাজ, পরিবেশ, শ্রমিক-কর্মচারী, ভোক্তা এবং সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও উন্নয়নে স্বেচ্ছায় যে দায়িত্ব পালন করে, তাকেই সিএসআর (CSR) বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. রাউফ সমাজের সাধারণ জনগণ বা সামগ্রিক পরিবেশ ও সমাজের প্রতি তাঁর সামাজিক দায়িত্ব অবহেলা করেছেন।

    ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশ রক্ষা করা এবং সমাজের মানুষের স্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কোনো ক্ষতি না করা। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা প্রতিটি ব্যবসায়ীর অপরিহার্য সামাজিক কর্তব্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রাউফ শহরতলীতে একটি পলিথিন কারখানা স্থাপন করেছেন। পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। তিনি পলিথিন উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছেন, যা জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের প্রতি স্পষ্ট অবহেলা নির্দেশ করে। ফলে তিনি পরিবেশ ও বৃহত্তর সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "গণসচেতনতাই পারে পলিথিন ব্যবহার ও উৎপাদন বন্ধ করতে"- উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    পলিথিন একটি অপচনশীল ও পরিবেশ-বিধ্বংসী উপাদান। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য জেল-জরিমানা আইন প্রণয়ন করেছে এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন বা জেল-জরিমানা করে কোনো ক্ষতিকর দ্রব্যের উৎপাদন ও ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন, যদি না সাধারণ জনগণ এর মারাত্মক ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন হয়। ভোক্তা পর্যায়ে পলিথিনের চাহিদা অব্যাহত থাকলে গোপনে এর উৎপাদন ও বিপণন চলতে থাকে। কিন্তু গণসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষ যদি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক বুঝতে পেরে পরিবেশবান্ধব বিকল্প (যেমন- পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের ঠোঙা) ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়, তবে পলিথিনের চাহিদা হ্রাস পাবে। চাহিদা না থাকলে উৎপাদনকারীরাও তা উৎপাদন করতে নিরুৎসাহিত হবে।

    অতএব, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টিই পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন