ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জামিল একটি তাঁতি সমবায় সমিতির সদস্য। অন্যদের তুলনায় সে বিত্তবান। সমবায়ের ১০ লক্ষ টাকা শেয়ার মূলধনের মধ্যে জামিলের একার মূলধনই ২ লক্ষ টাকা। জামিল চায় মূলধন বাড়িয়ে সমবায়ে কর্তৃত্ব নিতে। কিন্তু নির্বাচনের সময় সবারই এক ভোট হওয়ায় তার চিন্তা কোনো কাজে আসেনি। সমবায়টির বার্ষিক মুনাফা হয়েছিল ২ লক্ষ টাকা। জামিলকে দেয়া হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। সে আরও বেশি পাবে ভেবেছিলে। তাই সে ক্ষুব্ধ।
- ক)(1)
উৎপাদক সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
সমবায় সমিতিতে মুনাফা কীভাবে বণ্টিত হয়?
- গ)(3)
জামিল ইচ্ছা করলেই কি শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করতে পারত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জামিলের কম মুনাফা পাওয়া কি যুক্তিযুক্ত? মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বল্প পুঁজির উৎপাদকগণ মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বিক্রয় বা কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যে সমিতি গঠন করেন, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির অর্জিত বার্ষিক নিট মুনাফা সমবায় আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নিয়মে বণ্টন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, নিট মুনাফার ন্যূনতম ১৫% সংরক্ষিত তহবিলে এবং ন্যূনতম ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। অবশিষ্ট ৮২% মুনাফা সদস্যদের মধ্যে শেয়ার ও কার্যভিত্তিক লভ্যাংশ প্রদান, বোনাস বা অন্যান্য কল্যাণমূলক তহবিলে বণ্টন করা যায়। কোনো অবস্থাতেই শতভাগ মুনাফা সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামিল ইচ্ছা করলেই সমবায়টির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করতে পারত না।
সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, কোনো একক সদস্য কোনো সমবায় সমিতির মোট শেয়ার মূলধনের এক-পঞ্চমাংশ (বা ২০%)-এর বেশি শেয়ার ক্রয় করতে পারেন না। এটি করা হয় যাতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ করে সমবায়ের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বা কার্যক্রমে একক প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
উদ্দীপকে সমিতির মোট শেয়ার মূলধন ছিল ১০ লক্ষ টাকা। এর এক-পঞ্চমাংশ বা ২০% হলো ২ লক্ষ টাকা ( টাকা)। জামিল ইতোমধ্যে একাই ২ লক্ষ টাকার শেয়ার ধারণ করে আইনি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। অতএব, আইনগত বাধার কারণে সে চাইলেও আর শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করতে পারত না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামিলের ৩২ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া আইন ও নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী অর্জিত নিট মুনাফার অন্তত ১৫% সংরক্ষিত তহবিলে এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে স্থানান্তর করতে হয়। ফলে মোট মুনাফার সর্বোচ্চ ৮২% শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টনযোগ্য থাকে।
উদ্দীপকে সমিতিটির অর্জিত বার্ষিক মুনাফা ২ লক্ষ টাকা। জামিল মোট ১০ লক্ষ টাকার শেয়ার মূলধনের মধ্যে ২ লক্ষ টাকা ধারণ করায় সে মোট শেয়ারের ২০% অংশের মালিক। যদি অর্জিত ২ লক্ষ টাকার শতভাগই বণ্টন করা হতো, তবে জামিল পেত ৪০ হাজার টাকা ()। কিন্তু বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষিত তহবিলে ১৫% (৩০,০০০ টাকা) ও উন্নয়ন তহবিলে ৩% (৬,০০০ টাকা) অর্থাৎ মোট ১৮% (৩৬,০০০ টাকা) কর্তন করার পর বণ্টনযোগ্য সর্বোচ্চ মুনাফা দাঁড়ায় ১,৬৪,০০০ টাকা ( টাকা)।
এখন এই ১,৬৪,০০০ টাকার ২০% দাঁড়ায় ৩২,৮০০ টাকা। সমিতি যদি অন্যান্য কল্যাণমূলক তহবিলে সামান্য অর্থ রেখে জামিলকে ৩২,০০০ টাকা লভ্যাংশ দেয়, তবে তা সমবায় আইনের বণ্টনের বিধিমালার সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অতএব, সমবায়ের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শতভাগ মুনাফা বণ্টিত না হওয়ায় জামিলের ৩২ হাজার টাকা পাওয়া সম্পূর্ণ সঠিক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও