‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রটি বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা প্রায় দুইশত বছর শাসিত হয়েছে।প্রথম থেকে বিদেশী শাসকগোষ্ঠী 'ক' রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য নানা কুটকৌশল অবলম্বন করে। জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন তৈরি করে। কিন্তু কোনো আইনই জনগণকে খুশি করতে পারেননি। অবশেষে বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর একটি আইন তৈরি করে 'ক' রাষ্ট্রটিকে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের বিভক্ত করে স্বাধীনতা দিয়ে নিজ দেশে চলে যায়।

  1. ক)

    কত সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ৩ জুন পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তক এর যে ঘটনা বা আইনের মিল রয়েছে, তার বৈশিষ্ট ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পাঠ্যপুস্তকের ওই আইন 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যাশা পূরনে কতটুকু সফল হয়েছিল? মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতবর্ষ বিভাজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা নীতি ঘোষণা করেন, তাকে '৩ জুন পরিকল্পনা' বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলা হয়। এর ভিত্তিতেই ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টির পথ সুগম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যপুস্তকের '১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইন'-এর মিল রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. দুটি পৃথক ডোমিনিয়ন সৃষ্টি: এই আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি করা হয়।
    ২. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: ভারত ও পাকিস্তানের ওপর থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের অবসান ঘটে।
    ৩. গভর্নর জেনারেলের নিয়োগ: প্রতিটি ডোমিনিয়নের জন্য পৃথক গভর্নর জেনারেল নিয়োগের বিধান রাখা হয়।
    ৪. সংবিধান রচনার পূর্ণ ক্ষমতা: উভয় রাষ্ট্রের নিজস্ব গণপরিষদকে নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
    ৫. প্রদেশসমূহের বিভাজন: বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করার আইনি ভিত্তি প্রদান করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইন 'ক' রাষ্ট্র তথা অবিভক্ত ভারতের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের মূল প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছিল, তবে তা সর্বাংশে ত্রুটিমুক্ত ছিল না।

    প্রথমত, ব্রিটিশদের প্রায় দুইশত বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ভারতীয় জনগণের ছিল, এই আইনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। মুসলিম লীগের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি (পাকিস্তান) এবং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের দাবি অনেকাংশেই আইনটির মাধ্যমে অর্জিত হয়।

    তবে এই আইনের ফলে সৃষ্ট দেশভাগ জনগণের জন্য চরম মানবিক বিপর্যয় বয়ে আনে। বাংলা ও পাঞ্জাবের বিভাজন লক্ষ লক্ষ মানুষের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বাস্তুচ্যুতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া দেশীয় রাজ্যগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাশ্মীর সংকটসহ একাধিক অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইন ভারতকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা দেওয়ার মূল প্রত্যাশা পূরণ করতে পুরোপুরি সফল হলেও, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তা চূড়ান্ত পর্যায়ের ব্যর্থতা ও ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন