জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ক | খ | গ
কেঁচো | তারামাছ | গিনিপিগ

  1. ক)

    ICZN এর পূর্ণরূপ লিখ।

    (1)
  2. খ)

    প্রজাতি বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' প্রাণীটির পর্বগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত "গ" প্রাণীটি "ক" প্রাণী থেকে উন্নততর- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ICZN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Zoological Nomenclature।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির জীবের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্যকে প্রজাতি বৈচিত্র্য বলে। যে অঞ্চলে প্রজাতির সংখ্যা যত বেশি এবং প্রজাতির সমবণ্টন যত সুষম, সেখানে প্রজাতি বৈচিত্র্য তত বেশি হয়। যেমন— ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্য ও প্রবাল প্রাচীরে সবচেয়ে বেশি প্রজাতি বৈচিত্র্য দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' প্রাণীটি হলো তারামাছ (Starfish), যা Echinodermata (একাইনোডার্মাটা) পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

    একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
    ১. দেহত্বক কাঁটাময় এবং চুনময় অসিকল (ossicles) দ্বারা গঠিত অন্তকঙ্কালযুক্ত।
    ২. পূর্ণাঙ্গ প্রাণী পঞ্চ-অরীয় প্রতিসম (pentaradial symmetry), তবে এদের লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।
    ৩. এদের দেহে বিশেষ পানি সংবহনতন্ত্র (water vascular system) থাকে, যা চলন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসনে সাহায্য করে।
    ৪. চলনাঙ্গ হিসেবে নালিকা পদ (tube feet) উপস্থিত থাকে।
    ৫. দেহে কোনো সুস্পষ্ট মাথা, মস্তক বা খণ্ডায়ন থাকে না এবং মৌখিক ও বিমৌখিক তল উপস্থিত।
    ৬. এরা সবাই সামুদ্রিক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' প্রাণীটি হলো কেঁচো (পর্ব: Annelida) এবং 'গ' প্রাণীটি হলো গিনিপিগ (পর্ব: Chordata, শ্রেণি: Mammalia)। বিবর্তনীয় ও গঠনগত দিক বিবেচনায় গিনিপিগ কেঁচো অপেক্ষা অনেক উন্নত। নিচে কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কঙ্কালতন্ত্র: কেঁচোর কোনো সুনির্দিষ্ট অন্তকঙ্কাল নেই (হাইড্রোস্ট্যাটিক কঙ্কাল বিদ্যমান)। পক্ষান্তরে, গিনিপিগের একটি পূর্ণাঙ্গ, সুগঠিত অস্থিময় অন্তকঙ্কাল এবং মেরুদণ্ড রয়েছে।

    ২. সংবহনতন্ত্র: কেঁচোর সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির হলেও তাতে কোনো সুগঠিত চার প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃদপিণ্ড নেই (রক্তনালি ও পার্শ্বীয় হৃদপিণ্ড থাকে)। কিন্তু গিনিপিগে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট অত্যন্ত উন্নত হৃদপিণ্ড এবং দ্বি-চক্রীয় রক্ত সংবহনতন্ত্র উপস্থিত। এদের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না এবং হিমোগ্লোবিন থাকে।

    ৩. শ্বসনতন্ত্র: কেঁচো ত্বকের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বাসকার্য চালায়, এদের বিশেষায়িত শ্বসন অঙ্গ নেই। কিন্তু গিনিপিগের শ্বসনের জন্য অত্যন্ত উন্নত একজোড়া ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম) বিদ্যমান।

    ৪. স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক: কেঁচোর স্নায়ুতন্ত্র কেবল মস্তিষ্করূপী গ্যাংগলিয়া ও অঙ্কীয় স্নায়ুরজ্জু দ্বারা গঠিত। অপরদিকে, গিনিপিগে অত্যন্ত জটিল ও সুগঠিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (সেরিব্রাম, সেরিবেলাম ইত্যাদি বিশিষ্ট মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড) রয়েছে।

    ৫. তাপ নিয়ন্ত্রণ: কেঁচো শীতল রক্তবিশিষ্ট বা পোইকিলোথার্মিক জীব। অন্যদিকে, গিনিপিগ উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট বা হোমওথার্মিক (homeothermic) স্তন্যপায়ী প্রাণী।

    ৬. প্রজনন ও ভ্রূণীয় বিকাশ: কেঁচো উভলিঙ্গিক এবং কোনো অমরা গঠিত হয় না। পক্ষান্তরে গিনিপিগ একলিঙ্গিক, এদের অভ্যন্তরীণ নিষেক ঘটে এবং জরায়ুর অভ্যন্তরে অমরার (placenta) মাধ্যমে ভ্রূণের বিকাশ ঘটে। সন্তান প্রসবের পর মা তার সন্তানকে স্তন্যপান করায়।

    সুতরাং, অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় সকল বৈশিষ্ট্যের আলোকে এটি সুস্পষ্ট যে, 'গ' (গিনিপিগ) প্রাণীটি 'ক' (কেঁচো) প্রাণী অপেক্ষা উন্নততর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন