জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

জীববিজ্ঞানের শিক্ষক একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষের চিহ্নিত চিত্র আঁকলেন, যার বাইরে ‘M’ আবরণীটি নির্জীব কিন্তু ভেতরের ‘N’ আবরণীটি সজীব।

  1. ক)

    অটোলাইসিস কী?

    (1)
  2. খ)

    রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'M' আবরণটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের N আবরণীর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তীব্র খাদ্যাভাব বা প্রতিকূল অবস্থায় লাইসোজোমের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম নির্গত হয়ে কোষের নিজস্ব অঙ্গাণু বা সমগ্র কোষটিকে পরিপাক বা ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে অটোলাইসিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রধান কেন্দ্র হলো রাইবোজোম। মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)-তে কোডকৃত জেনেটিক সংকেত অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোকে পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত করে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি রাইবোজোমের মধ্যেই সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন হয়। জীবদেহের জন্য অপরিহার্য প্রোটিন সংশ্লেষণ করার প্রধান কারখানা হিসেবে কাজ করায় রাইবোজোমকে 'প্রোটিন ফ্যাক্টরি' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'M' আবরণটি হলো নির্জীব 'কোষপ্রাচীর' (Cell Wall)।

    কোষপ্রাচীরের ভৌত গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
    একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর প্রধানত তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত:
    ১. মধ্যপর্দা (Middle lamella): এটি পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষের মিলনস্থলে অবস্থিত সাধারণ স্তর। এটি প্রধানত পেকটিক অ্যাসিড ও অন্যান্য পেকটিক পদার্থ দ্বারা গঠিত এবং জেলির মতো কাজ করে দুটি কোষকে যুক্ত রাখে।
    ২. প্রাথমিক প্রাচীর (Primary wall): মধ্যপর্দার উপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন জমা হয়ে যে পাতলা (১-৩ মাইক্রোমিটার পুরু) স্তর সৃষ্টি করে, তাকে প্রাথমিক প্রাচীর বলে।
    ৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর (Secondary wall): পরিণত কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরের দিকে সেলুলোজ ও লিগনিন জমা হয়ে অপেক্ষাকৃত পুরু ও শক্ত সেকেন্ডারি প্রাচীর গঠিত হয়। এটি সাধারণত তিন স্তরবিশিষ্ট হয়।

    এছাড়া কোষপ্রাচীরে স্থানে স্থানে সূক্ষ্ম ফাঁকা অংশ দেখা যায়, যাকে পিট বা কূপ (Pit) বলে। পাশাপাশি দুটি কোষের পিট পরস্পর মিলিত হয়ে পিট জোড় (Pit pair) গঠন করে। দুটি সন্নিহিত কোষের প্রোটোপ্লাজমীয় সংযোগকারী সূক্ষ্ম নালিকাকে প্লাজমোডেসমাটা বলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'N' আবরণটি হলো কোষের সজীব আবরণী 'কোষঝিল্লি' বা 'প্লাজমামেমব্রেন' (Cell membrane)। উদ্ভিদকোষের জীবনে এর গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

    ১. কোষের কাঠামো ও অঙ্গাণু সংরক্ষণ: এটি প্রোটোপ্লাজমের অভ্যন্তরীণ সজীব অঙ্গাণুসমূহকে বাহ্যিক পরিবেশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি রক্ষা করে।
    ২. বৈষম্যভেদ্য পর্দা হিসেবে ভূমিকা: প্লাজমামেমব্রেন একটি বৈষম্যভেদ্য (selectively permeable) ঝিল্লি হিসেবে কাজ করে কোষের ভেতরে প্রয়োজনীয় পানি, খনিজ লবণ ও অন্যান্য অণুর প্রবেশ এবং বর্জ্য পদার্থের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৩. অবিশ্রবণ ও ব্যাপন নিয়ন্ত্রণ: কোষঝিল্লির মাধ্যমে কোষে পানি ও খনিজ লবণের ব্যাপন ও অবিশ্রবণ প্রক্রিয়া সংঘটিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
    ৪. পরিবহন নিয়ন্ত্রণ: কোষঝিল্লির বাহক প্রোটিন ও আয়ন চ্যানেলগুলো কোষের অভ্যন্তরে এবং বাইরে পুষ্টি ও খনিজ আয়ন সক্রিয় এবং নিষ্ক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৫. সংকেত গ্রহণ ও প্রতিদান: ঝিল্লির বহিঃপৃষ্ঠের রিসেপ্টর প্রোটিন বিভিন্ন হরমোন ও রাসায়নিক সংকেত গ্রহণ করে কোষীয় কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটায়।
    ৬. আন্তঃকোষীয় সংযোগ: এটি পাশাপাশি অবস্থিত অন্যান্য কোষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং তথ্য ও উপাদান বিনিময়ে অংশগ্রহণ করে।

    সুতরাং, একটি কোষের সজীবতা, সামগ্রিক বিপাক ক্রিয়া এবং স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে প্লাজমামেমব্রেন বা 'N' আবরণীটি অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন