অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রসুলপুর গ্রামে পেঁয়াজের খুব ভালো ফলন হয়। কিন্তু এ গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততার কারণে কোনো ফসল সংরক্ষণাগার গড়ে উঠেনি। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির দালাল কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ খুব কম মূল্যে কিনে নেয় এবং বেশি দামে শহরের বাজারে বিক্রয় করে।
- ক)(1)
শস্য বহুমুখীকরণ কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষি উন্নয়নকে ব্যাহত করছে - উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের কৃষিতে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা দূরীকরণে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে সারা বছর কেবল একটি নির্দিষ্ট ফসল চাষ না করে ঋতুভেদে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন ঘটছে। এর প্রভাবে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উৎপাদনকে ব্যাহত করে, মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং আবাদযোগ্য জমি হ্রাস করে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা সামগ্রিকভাবে কৃষি উন্নয়নকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের কৃষিতে বিদ্যমান প্রধান সমস্যাগুলো হলো উন্নত যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার অভাব, বিদ্যুৎ সংকট, সংরক্ষণাগার (হিমাগার)-এর অনুপস্থিতি এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্য।
রসুলপুর গ্রামে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও প্রতিকূল অবকাঠামোর কারণে কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকরা সহজে তাদের পণ্য সরাসরি শহরের বড় বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন না। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সুবিধার ঘাটতির কারণে সেখানে কোনো আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার গড়ে ওঠেনি। পেঁয়াজ একটি পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় কৃষকদের দ্রুত তা বিক্রির চাপ থাকে। এই সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া-দালাল শ্রেণি অতি অল্প দামে কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে নেয় এবং শহরের বাজারে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। ফলে উৎপাদক কৃষক শ্রমের সঠিক মূল্য পায় না এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রসুলপুর গ্রামের সমস্যা দূরীকরণে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: রসুলপুর গ্রামের সাথে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে পাকা রাস্তা ও ব্রিজের উন্নয়ন করা দরকার, যাতে কৃষকরা সহজে পণ্য পরিবহন করতে পারেন।
২. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ: গ্রামে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আধুনিক ফসল সংরক্ষণাগার ও হিমাগার পরিচালনা সম্ভব হয়। প্রয়োজনে সৌরশক্তির বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণাগার নির্মাণ: সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে গ্রামে আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার বা ওয়্যারহাউজ স্থাপন করা জরুরি, যাতে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় ছাড়াই কৃষকরা দীর্ঘদিন তা মজুত রাখতে পারেন।
৪. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: কৃষকদের সমবায়ভিত্তিক বিপণন সমিতি গড়ে তোলার সুযোগ দিতে হবে। এতে কৃষকরা সরাসরি ভোক্তার নিকট বা বড় বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
৫. সরকারি ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও সরাসরি ক্রয়: সরকার কর্তৃক সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ কেনার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৬. সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ: ফসল তোলাকালীন সময়ে কৃষকদের আর্থিক সংকট মেটাতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তারা কম দামে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য না হন।পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে গ্রহণ করলে রসুলপুর গ্রামের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার সার্বিক উন্নতি ঘটবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও