অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিম্নরূপ:

অর্থবছর | আমদানি ব্যয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) | রপ্তানি আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
২০১৪-১৫ | ৪০৭০৪ | ৩১২০৯
২০১৫-১৬ | ৪২৯২১ | ৩৪২৫৭

  1. ক)

    অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈদেশিক বাণিজ্য দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি হ্রাস প্রয়োজন'- তুমি কি একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের মধ্যে যে দ্রব্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈদেশিক বাণিজ্য একটি দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত হতে পারে, যার ফলে দেশের উৎপাদিত পণ্যের বাজার বহুগুণে সম্প্রসারিত হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা সীমিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য উৎপাদনকারীরা অধিক পরিমাণে উৎপাদনের সুযোগ পায়। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যের ফলে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করে উৎপাদন ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি মূলত বাণিজ্য ঘাটতি নির্দেশ করে।

    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ছিল ৪০,৭০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রপ্তানি আয় ছিল ৩১,২০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে এ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল (৪০,৭০৪ - ৩১,২০৯) = ৯,৪৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪২,৯২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এবং রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ৩৪,২৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে এ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় (৪২,৯২১ - ৩৪,২৫৭) = ৮,৬৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    দেখা যাচ্ছে যে, উভয় অর্থবছরেই রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ বেশি, অর্থাৎ দেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ঋণাত্মক বা প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধির চেয়ে তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এখনো আমদানি-নির্ভর এবং বাণিজ্য ঘাটতি দ্বারা চিহ্নিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি হ্রাস প্রয়োজন'- আমি এই বক্তব্যের সাথে আংশিক একমত। তবে শর্তহীনভাবে সকল আমদানি হ্রাস দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে সহায়ক নাও হতে পারে।

    একটি দেশের অনুকূল বাণিজ্য ভারসাম্য এবং পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। রপ্তানি বাড়লে দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। একই সাথে অপ্রয়োজনীয়, বিলাসজাত বা ক্ষতিকর পণ্যের আমদানি হ্রাস করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা সম্ভব হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেশীয় শিল্পের বিকাশের স্বার্থে বিকল্প পণ্য উৎপাদন করে আমদানি কমানো প্রয়োজন।

    তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাথমিক ও গতিশীল পর্যায়ে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি অপরিহার্য। এ ধরনের উৎপাদনশীল আমদানি নির্বিচারে হ্রাস করলে দেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।

    অতএব, ঢালাওভাবে সকল আমদানি হ্রাস না করে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসজাত আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং মূলধনি ও শিল্প সহায়ক আমদানি বজায় রেখে বহুমুখী রপ্তানি বাড়ানোই অর্থনৈতিক উন্নয়নের টেকসই কৌশল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন