‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ফজলুল হক সম্প্রতি আফ্রিকা সফরে যান। তিনি দেখতে পান সেখানকার কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তৈরি করে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।

  1. ক)

    কমনওয়েলথ কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থার সাথে তোমার পঠিত কোনো আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই উক্ত সংস্থার লক্ষ্য— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কমনওয়েলথ হলো অতীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল এমন স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ নিয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক সংস্থা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বলতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ যে রূপরেখা, নীতিমালা ও কৌশল অনুসরণ করে তাকে বোঝায়। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বৈদেশিক নীতির মূলভিত্তি বর্ণিত হয়েছে, যার মূল কথা হলো— "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়" (Friendship to all, malice towards none) এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত আফ্রিকার আঞ্চলিক সংস্থার সাথে আমাদের পঠিত আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা 'সার্ক' (SAARC)-এর সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    ভৌগোলিক নৈকট্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ যখন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথভাবে একটি সংস্থা গড়ে তোলে, তাকে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বলে।

    উদ্দীপকে ফজলুল হক আফ্রিকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থে গড়ে ওঠা একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা প্রত্যক্ষ করেন। একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি প্রতিবেশী দেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান) পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যৌথ স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে 'সার্ক' (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) প্রতিষ্ঠা করে। ভৌগোলিক সান্নিধ্য, প্রতিবেশী দেশের সমাবেশ এবং অভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য বিবেচনায় উদ্দীপকের সংস্থাটির সাথে সার্কের পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই উক্ত সংস্থার লক্ষ্য"— সার্কের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    সার্কভুক্ত দেশগুলো ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে বহু অভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, রোগব্যাধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলো কোনো একক দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ কারণে সার্কের মূল চার্টারে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ:
    ১. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শুল্ক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সাপটা (SAPTA) ও পরবর্তীতে সাফটা (SAFTA) কার্যকর করা হয়েছে।
    ২. মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি বিনিময়: শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে অঞ্চলের সার্বিক উন্নতি সাধন।
    ৩. যৌথ সমস্যা মোকাবিলা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য ব্যাংক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
    ৪. জনগণের মেলবন্ধন: সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি।

    সুতরাং, বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, বহিঃশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে নিজস্ব অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতাই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য ও চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন