ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
ইসলামপূর্ব যুগে আরবে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। আরবরা এ সময় কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাকে জীবন্ত কবর দিত। তারা কন্যা সন্তানকে হত্যা করে গর্বিত পিতার সম্মান অর্জন করত। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের পর সমাজে নারীর অবস্থার উন্নয়ন ঘটে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
হাজী শরিয়তউল্লাহ কে ছিলেন
- খ)(2)
কলকাতা নগরীর গোড়াপত্তন ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে তোমার পঠিত কোন ইংরেজ শাসকের সংস্কার কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ভারতীয় হিন্দু নারীসমাজ তাদের অধিকার রক্ষায় অনেকাংশেই ইংরেজ শাসকদের কাছে ঋণী, তুমি কি একমত? তোমার 'উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজী শরিয়তউল্লাহ ছিলেন উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত 'ফরায়েজী আন্দোলন'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৬৯০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রাম ক্রয় করে একটি বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে বাণিজ্যনগরী কলকাতা। ১৭১৫ সালে মোগল সম্রাট ফাররুখশিয়ারের ফরমান লাভের পর কলকাতা দ্রুত একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে পঠিত ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সংস্কার কাজের মিল রয়েছে।
ইসলামপূর্ব আরবের বর্বর কন্যা সন্তান হত্যার মতো উপমহাদেশে দীর্ঘকাল ধরে হিন্দু সমাজে 'সতীদাহ প্রথা' নামক চরম অমানবিক প্রথা প্রচলিত ছিল, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন্ত বিধবা স্ত্রীকে চিতায় পুড়িয়ে মারা হতো। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায়ের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে ১৭ নম্বর রেগুলেশন জারি করে আইনগতভাবে সতীদাহ প্রথা রদ করেন। তিনি কন্যা শিশু হত্যা রোধেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ফলে সমাজে নারীর বেঁচে থাকার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উদ্দীপকে বর্ণিত নারী মর্যাদা বৃদ্ধির অনুরূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় হিন্দু নারীসমাজ তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেকাংশেই ইংরেজ শাসকদের কাছে ঋণী—উক্তিটির সাথে আমি একমত।
তৎকালীন ভারতীয় রক্ষণশীল হিন্দু সমাজে নারীদের স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকার ছিল চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত। সতীদাহের মতো বর্বর কুপ্রথা ছাড়াও বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ এবং বিধবাদের অবমাননাকর জীবনযাপন সমাজে স্বাভাবিক ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রাজা রামমোহন রায়ের মতো দেশীয় সংস্কারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ইংরেজ শাসকরা প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে হিন্দু নারীদের জীবনের নিরাপত্তা দেন। পরবর্তীতে লর্ড ডালহৌসির আমলে এবং লর্ড ক্যানিং কর্তৃক ১৮৫৬ সালে 'হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন' পাস হয়, যা বিধবাদের সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে। এছাড়াও কন্যা শিশু হত্যা রোধ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে ইংরেজ শাসকরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। এই সমস্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ভারতীয় হিন্দু নারীদের সামাজিক মুক্তি ও অধিকার রক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে, তাই তাদের এই অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও