ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. কবির একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। তার অবর্তমানে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তিনি আমৃত্যু মেয়াদের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন। বিমাপত্র গ্রহণের ২০ বছর পর বিষাকৃত ব্যক্তি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশায় বিমা কর্তৃপক্ষের নিকট পলিসির দাবি পেশ করেন ।
- ক)(1)
সমৰ্পণ মূল্য কী?
- খ)(2)
বিমায় বোনাস দেওয়া হয় কেন?
- গ)(3)
মি. কবির কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি. কবির কি বিমাদাবি পাওয়ার অধিকারী? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেয়াদপূর্তির পূর্বেই কোনো জীবন বিমাপত্র চালু রাখতে অপারগ হয়ে বিমাগ্রহীতা তা বিমা কোম্পানির নিকট সমর্পণ করলে বিমা কোম্পানি তাকে যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়, তাকে সমর্পণ মূল্য (Surrender Value) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুনাফাসহ জীবন বিমাপত্রের ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির অর্জিত মুনাফার যে অংশ বিমাগ্রহীতাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, তাকে বোনাস বলে।
বিমা কোম্পানিগুলো বছর শেষে তাদের মোট প্রিমিয়াম আয় ও বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয় থেকে যাবতীয় দায়-খরচ বাদ দিয়ে উদ্বৃত্ত বা নিট মুনাফা নির্ধারণ করে। মুনাফাসহ পলিসি গ্রহণকারী গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এবং তাদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিমা কোম্পানি অর্জিত মুনাফার একটি অংশ বোনাস হিসেবে প্রদান করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. কবির 'আজীবন বিমাপত্র' (Whole Life Policy) গ্রহণ করেছেন।
যে জীবন বিমাপত্রে বিমাগ্রহীতার জীবিত থাকা অবস্থায় বিমাদাবি পরিশোধ করা হয় না, বরং বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে বিমাকৃত অর্থ পরিশোধ করা হয়, তাকে আজীবন বিমাপত্র বলে। এ ধরনের বিমাপত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার ওপর নির্ভরশীলদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ী মি. কবির তার অবর্তমানে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে 'আমৃত্যু মেয়াদের' জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। যেহেতু তিনি আজীবন ঝুঁকির বিপরীতে এবং নিজের মৃত্যুর পর সন্তানদের সুরক্ষার জন্য পলিসিটি নিয়েছেন, তাই তার গৃহীত বিমাপত্রটি হলো একটি আজীবন বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকের আলোকে মি. কবির বর্তমানে বিমাদাবি পাওয়ার অধিকারী নন।
আজীবন বিমাপত্রের নিয়ম অনুযায়ী, বিমাচুক্তির অর্থ কেবল বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পরই তার মনোনীত প্রতিনিধি বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করা হয়। বিমাগ্রহীতা নিজে জীবিত থাকা অবস্থায় এই বিমাপত্রের মূল বিমাদাবি দাবি বা গ্রহণ করতে পারেন না। যদি বিমাগ্রহীতা চুক্তিটি অব্যাহত রাখতে না চান, তবে তিনি কেবল নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সমর্পণ মূল্য দাবি করতে পারেন, কিন্তু চুক্তির মূল বিমাদাবি বা আর্থিক সুবিধা জীবদ্দশায় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উদ্দীপকে মি. কবির ছোট ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমৃত্যু মেয়াদের জন্য আজীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পলিসি গ্রহণের ২০ বছর পর তিনি জীবিত থাকা অবস্থাতেই আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় বিমা কর্তৃপক্ষের নিকট বিমাদাবি পেশ করেন।
যেহেতু আজীবন বিমাপত্রের মৌলিক শর্তই হলো বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে দাবি কার্যকর হওয়া এবং মি. কবির এখনো জীবিত আছেন, তাই প্রচলিত বিমা নীতি ও চুক্তি অনুযায়ী তিনি স্বয়ং বিমাদাবি পাওয়ার অধিকারী নন। অতএব, তার এই বিমাদাবির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও