ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে' শ্রেণি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীকে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছাসের মধ্যে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণি শিক্ষককে না জানিয়ে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনাটি ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবাই আপনজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে।
- ক)(1)
বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উক্ত যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই কি মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের প্রধান সেনাপতি ছিলেন আবু জাহেল (আমর ইবনে হিশাম)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধিকে বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও পবিত্র কুরআনে একে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয়েছে। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মুসলমানদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে যুদ্ধাবস্থা দূরীভূত হয়ে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং মুসলমানদের সাথে অমুসলিমদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ ঘটে। এই শান্তিচুক্তির পরবর্তী মাত্র দুই বছরে যত মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তা পূর্ববর্তী বিশ বছরেও সম্ভব হয়নি। তাই এটি ছিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিক দিয়ে ইসলামের এক মহাবিজয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের ঐতিহাসিক 'উহুদের যুদ্ধ' (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ)-এর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে।
উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.) উহুদ পাহাড়ের 'আইনাইন' গিরিপথে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন দক্ষ তীরন্দাজ সৈন্য মোতায়েন করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন—জয় কিংবা পরাজয়—তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত তারা যেন কোনো অবস্থাতেই এই গিরিপথ ত্যাগ না করেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রথমার্ধে মুসলিমরা বিজয়ী হতে শুরু করলে এবং কুরাইশরা রণক্ষেত্র ছেড়ে পালালে তীরন্দাজ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য দলপতির নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদেশ অমান্য করে গণিমতের মাল সংগ্রহের জন্য গিরিপথ ছেড়ে নেমে আসেন। এই সুযোগে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে কুরাইশ অশ্বারোহী বাহিনী পেছন দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ করে এবং মুসলিমদের প্রাথমিক বিজয় সাময়িক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
উদ্দীপকে কলেজ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া গভীর বনে না যেতে। কিন্তু অল্প কয়েকজন সেই নির্দেশ অমান্য করায় বাঘের আক্রমণে প্রাণহানি ও বিপর্যয় ঘটে। এই অবাধ্যতা ও বিপর্যয় সরাসরি উহুদের যুদ্ধে সেনাপতির নির্দেশ অমান্য করার ফলে সৃষ্ট ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উহুদের যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের একটি অপরাজেয় ও সুসংহত শক্তিতে পরিণত করেছিল—এ কথাটি যথার্থ।
উহুদের যুদ্ধ মুসলমানদের জন্য এক চরম বাস্তবমুখী শিক্ষা এনে দিয়েছিল। এই যুদ্ধে প্রাথমিক বিজয়ের পর নেতার আদেশ অমান্য করা এবং পার্থিব সম্পদ তথা যুদ্ধলব্ধ গণিমতের প্রতি আসক্তি মুসলিম বাহিনীকে যে শোচনীয় সংকটের মুখে ফেলেছিল, তা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিল। মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা অমান্য করার কারণেই প্রায় সত্তর জন বিশিষ্ট সাহাবি শাহাদাত বরণ করেছিলেন এবং স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) আহত হয়েছিলেন।
এই বেদনাদায়ক বিপর্যয় থেকে মুসলিমরা প্রধানত দুটি মৌলিক শিক্ষা লাভ করে: প্রথমত, নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য ও চরম শৃঙ্খলা বজায় রাখা; দ্বিতীয়ত, জাগতিক লোভ-লালসা ও ভোগবাদী মানসিকতা পরিহার করে আদর্শের প্রতি অবিচল থাকা।
পরবর্তীকালে খন্দকের যুদ্ধ, মুতার যুদ্ধ, মক্কা বিজয় কিংবা হুনায়নের যুদ্ধে মুসলমানরা উহুদের এই শিক্ষার পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটায়। সেনাপতির নির্দেশ একনিষ্ঠভাবে পালন এবং লৌহকঠিন শৃঙ্খলার কারণে পরবর্তীতে কোনো প্রতিপক্ষই মুসলিম বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারেনি।
সুতরাং, উহুদের যুদ্ধের সাময়িক বিপর্যয়ই ছিল ভবিষ্যৎ বিজয়ের ভিত্তিপ্রস্তর, যা মুসলমানদের সামরিক ও চারিত্রিক দিক থেকে অপরাজেয় জাতিতে রূপান্তরিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও