জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

গ্রুপ A: ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত, জলাতঙ্কগ্রুপ B: যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টিটেনাস

  1. ক)

    ভিরিয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    ডেঙ্গু কেন মানুষের জন্য বিপদজ্জনক?

    (2)
  3. গ)

    গ্রুপ B এর রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গ্রুপ A এর রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব সবর্দাই অন্যের সহায়তায় বংশবিস্তারে সক্ষম-উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সম্পূর্ণ ও সক্রিয় ভাইরাস কণাকে ভিরিয়ন (Virion) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণ জ্বরের পাশাপাশি তীব্র ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF) বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম (DSS) দেখা দেয়। এতে রোগীর রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে এবং রক্তচাপ মারাত্মক কমে গিয়ে রোগী অচৈতন্য হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রুপ B-এর রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব হলো ব্যাকটেরিয়া (যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও টিটেনাস ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ)। একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়ার চিহ্নিত চিত্রের বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো:

    [একটি আদর্শ ব্যাক্টেরিয়াম কোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে]
    চিহ্নিত অংশসমূহ:
    ১. ক্যাপসুল বা স্লাইম স্তর (সবচেয়ে বাইরের আবরণ)
    ২. কোষ প্রাচীর (পেপটিডোগ্লাইকান নির্মিত)
    ৩. প্লাজমা মেমব্রেন এবং মেসোজোম (অভ্যন্তরীণ ভাঁজ)
    ৪. সাইটোপ্লাজম ও রাইবোসোম (৭০S)
    ৫. নিউক্লিঅয়েড (আদি নিউক্লিয়াস বা প্রধান বৃত্তাকার ডিএনএ)
    ৬. প্লাজমিড (অতিরিক্ত বৃত্তাকার ডিএনএ)
    ৭. ফ্ল্যাজেলা (চলাচলের চাবুকের মতো অঙ্গাণু) ও পিলি (ক্ষুদ্র রোমশ উপবৃদ্ধি)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গ্রুপ A-এর রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলো হলো ভাইরাস (ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত ও জলাতঙ্ক ভাইরাসঘটিত রোগ)। ভাইরাস জীব ও জড়ের সেতুবন্ধনকারী এক অনন্য অকোষীয় সত্তা। ভাইরাস যে সর্বদা অন্যের (পোষক কোষের) সহায়তায় বংশবিস্তারে সক্ষম, তা নিম্নোক্ত বৈজ্ঞানিক কারণসমূহের ভিত্তিতে যথার্থ:

    ১. অকোষীয় গঠন ও নিজস্ব বিপাকীয় ঘাটতি: ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষ অঙ্গাণু (যেমন—সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোসোম ইত্যাদি) নেই। বংশবৃদ্ধির জন্য যে শক্তি উৎপাদন (ATP) ও এনজাইমের প্রয়োজন, তা তৈরির বিপাকীয় ব্যবস্থা ভাইরাসের থাকে না।
    ২. বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate Parasite): পোষক কোষের বাইরে ভাইরাস কেবল নিষ্ক্রিয় রাসায়নিক কণা (নিউক্লিক এসিড ও ক্যাপসিডের সমন্বয়)। জড় পরিবেশে এরা কোনো প্রকার শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি বা স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন প্রদর্শন করতে পারে না।
    ৩. পোষকের জিনোম ও রাইবোসোমীয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার: উপযুক্ত জীবন্ত পোষক কোষে প্রবেশের পরই কেবল ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি পোষক কোষের ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন যন্ত্রপাতি (রাইবোসোম, tRNA, অ্যামিনো এসিড এবং শক্তি) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের ভাইরাল ডিএনএ/আরএনএ অনুলিপন এবং ক্যাপসিড প্রোটিন তৈরি করিয়ে নেয়।
    ৪. নতুন অপত্যের সমাবেশ: পোষক কোষের কাঁচামাল ও শক্তি ব্যবহার করে অপত্য ভাইরাস কণা গঠিত হয় এবং শেষপর্যন্ত পোষক কোষ বিদীর্ণ করে বা মুকুলোদগমের মাধ্যমে নির্গত হয়ে পুনরায় নতুন পোষক খোঁজে।

    অতএব, নিজস্ব বিপাকীয় ও জননগত অক্ষমতার কারণে ভাইরাস কখনোই স্বাধীনভাবে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না; বংশবিস্তারের জন্য এটি সর্বদাই জীবন্ত পোষকের কোষীয় ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন