‍ইতিহাস ২য় পত্র • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিশ্বে একটি সংগঠনের জন্ম। হলেও বৃহৎ দেশসমূহের অসহযোগিতাসহ বিভিন্ন কারণে সংগঠনটি শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তথাপি তৎকালীন আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

  1. ক)

    ভার্সাই নগরী কোথায়?

    (1)
  2. খ)

    ত্রিশক্তি আঁতাত কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তৎকালীন বিশ্বে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত সংগঠনটির অবদান অনস্বীকার্য- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভার্সাই নগরী ফ্রান্সে (প্যারিসের উপকণ্ঠে) অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯০৭ সালে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যে যে পারস্পরিক সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বা মৈত্রী গড়ে উঠেছিল, তাকে 'ত্রিশক্তি আঁতাত' বা 'ট্রিপল আঁতাত' (Triple Entente) বলা হয়। এটি মূলত জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালিকে নিয়ে গঠিত 'ত্রিশক্তি চুক্তি'র (Triple Alliance) পাল্টা জোট হিসেবে গঠিত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ্বসংগঠনটির সাথে পাঠ্যবইয়ের 'লীগ অব নেশনস' বা 'জাতিসংঘ'-এর (League of Nations) সাদৃশ্য রয়েছে।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করার পর ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে 'লীগ অব নেশনস' গঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফার ভিত্তিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগদান করেনি। তদুপরি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো বৃহৎ শক্তির নিষ্ক্রিয়তা ও সংকীর্ণ স্বার্থপরতার কারণে সংগঠনটি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয় এবং অকার্যকর হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে বৃহৎ দেশগুলোর অসহযোগিতা এবং শান্তির লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা লীগ অব নেশনসের ইতিহাসের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৎকালীন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় লীগ অব নেশনস শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় এর অবদান অনস্বীকার্য।

    প্রথমত, লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এক দশক ধরে এটি বেশ কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিরোধ সফলভাবে মীমাংসা করতে সক্ষম হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ—১৯২০ সালে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে অল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিরোধ নিষ্পত্তি, ১৯২১ সালে জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে আপার সাইলেসিয়ার সীমান্ত সমস্যা সমাধান, এবং ১৯২৫ সালে গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মধ্যকার সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধে লীগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

    দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ প্রতিরোধ ছাড়াও সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী নানাবিধ সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। যুদ্ধবন্দিদের নিজ দেশে পুনর্বাসন, শরণার্থী সমস্যার সমাধান, দাসপ্রথা ও মানবপাচার রোধ, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠসহ সংক্রামক ব্যাধি দূরীকরণ এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর মাধ্যমে লীগ ব্যাপক অবদান রাখে।

    যদিও পরবর্তীকালে ইতালি, জার্মানি ও জাপানের মতো ফ্যাসিবাদী ও আগ্রাসী শক্তির বিস্তার ঠেকাতে লীগ অব নেশনস কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, তথাপি বিশ্বজনীন কূটনীতি এবং পরবর্তীতে বর্তমান 'জাতিসংঘ' (United Nations) গঠনের মডেল হিসেবে এর ভূমিকা ও অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন