‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

চিত্রটি লক্ষ কর-

মজুটি (টাকা) | শ্রমের চাহিদা (শ্রম-ঘন্টা) | শ্রমের যোগান (শ্রম-ঘন্টা)
১০০ | ২০ | ১৪
২০০ | ১৬ | ১৬
৩০০ | ১৪ | ২০
৪০০ | ১২ | ১৮

  1. ক)

    শ্রমের দক্ষতা কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে অধিক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে রেখাচিত্রে শ্রমের বাজার ভারসাম্য দেখিয়ে মজুরির পরিমাণ নির্দেশ করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে অঙ্কিত যোগান রেখার আকৃতির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ও মানের দ্রব্য উৎপাদন করার সামর্থ্য বা কর্মক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি বেশি না হওয়ার মূল কারণ হলো তাদের দক্ষতার অভাব। অধিকাংশ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক অপ্রশিক্ষিত ও অদক্ষ কিংবা আধা-দক্ষ সাধারণ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান। কারিগরি জ্ঞান, ভাষা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার অভাবের কারণে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারেন না। শ্রমের উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের মজুরি অপেক্ষাকৃত কম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী, মজুরি ও শ্রমের চাহিদার মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক এবং একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে সম্মুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।

    সারণি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

    • মজুরি ১০০ টাকা হলে শ্রমের চাহিদা ২০ শ্রম-ঘণ্টা এবং যোগান ১৪ শ্রম-ঘণ্টা (চাহিদা > যোগান)।
    • মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ টাকা হলে শ্রমের চাহিদা কমে ১৬ শ্রম-ঘণ্টা হয় এবং যোগান বেড়ে ১৬ শ্রম-ঘণ্টা হয়। এখানে শ্রমের চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান (চাহিদা = যোগান = ১৬)।
    • মজুরি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ ও ৪০০ টাকা হলে শ্রমের চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি থাকে।

    রেখাচিত্রে উপস্থাপন:
    ভূমি অক্ষে শ্রমের পরিমাণ (চাহিদা ও যোগান) এবং লম্ব অক্ষে মজুরির হার পরিমাপ করা হয়। শ্রমের চাহিদা রেখাটি (DL) নিম্নগামী এবং যোগান রেখাটি (SL) প্রাথমিক পর্যায়ে ঊর্ধ্বগামী। এই দুটি রেখা পরস্পরকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (E) ছেদ করে যেখানে শ্রমের পরিমাণ ১৬ শ্রম-ঘণ্টা এবং মজুরি ২০০ টাকা।

    অতএব, উদ্দীপকের আলোকে রেখাচিত্রে ভারসাম্য বিন্দুতে নির্ধারিত মজুরির পরিমাণ হলো ২০০ টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী শ্রমের মজুরি যখন ১০০ টাকা থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ টাকা এবং পরে ৩০০ টাকা হয়, তখন শ্রমের যোগান ১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৬ এবং ২০ শ্রম-ঘণ্টা হয়। কিন্তু মজুরি আরও বৃদ্ধি পেয়ে যখন ৪০০ টাকা হয়, তখন শ্রমের যোগান ২০ শ্রম-ঘণ্টা থেকে হ্রাস পেয়ে ১৮ শ্রম-ঘণ্টা হয়। এর ফলে অঙ্কিত শ্রমের যোগান রেখাটি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর পেছনের দিকে বা বাম দিকে বেঁকে যায়, যাকে পশ্চাৎমুখী শ্রমের যোগান রেখা (Backward Bending Supply Curve of Labour) বলা হয়।

    এই আকৃতির যৌক্তিকতা নিম্নরূপ:
    সাধারণত মজুরি বাড়লে শ্রমিকরা বেশি কাজ করতে উৎসাহিত হয় এবং শ্রমের যোগান বাড়ে, যাকে 'প্রতিস্থাপন প্রভাব' (Substitution Effect) বলে। কিন্তু মজুরি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার (এখানে ৩০০ টাকার) চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেলে শ্রমিকদের মোট আয় অনেক বেড়ে যায়। তখন শ্রমিকরা কাজের অতিরিক্ত ঘণ্টার চেয়ে অবসর ও আরাম-আয়েশকে বেশি প্রাধান্য দেয়, যা 'আয় প্রভাব' (Income Effect) নামে পরিচিত। উদ্দীপকে ৪০০ টাকা মজুরিতে আয় প্রভাব প্রতিস্থাপন প্রভাবের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় শ্রমিকরা কাজ কমিয়ে অবসর বেশি ভোগ করে, যার ফলে শ্রমের যোগান কমে ১৮ শ্রম-ঘণ্টা হয়।

    সুতরাং, উচ্চ মজুরিতে আরাম ও অবসরের প্রতি শ্রমিকের পছন্দের কারণে উদ্দীপকের আলোকে অঙ্কিত যোগান রেখাটি পশ্চাৎমুখী হওয়া সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন