জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মানুষের বারো জোড়া করোটিক স্নায়ুর মধ্যে দুই (২) নং স্নায়ুএক বিশেষ অঙ্গে গমন করেছে। এটি তিনটি স্তর দ্বারা গঠিতহলেও ভিতরের স্তরটিতে দুটি বিশেষ ধরনের কোষ থাকে।

  1. ক)

    মেনিনজেস কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিনেত্র দৃষ্টি কী? ব্যাখা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিত্র অংকন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে পরিবেষ্টনকারী ত্রিস্তরীয় যোজক কলার সুরক্ষামূলক আবরণকে মেনিনজেস (Meninges) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উভয় চোখ দিয়ে একই সাথে কোনো একটি বস্তুকে একক ও ত্রিমাত্রিক (3D) ভাবে দেখার দৃষ্টি পদ্ধতিকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular vision) বলে। মানুষসহ অধিকাংশ শিকারী প্রাণীতে এ ধরনের দৃষ্টি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে দুটি চোখের দৃষ্টিক্ষেত্র আংশিকভাবে একে অপরের ওপর উপরিপাতিত (overlap) হয়। ফলে মস্তিষ্কের অপটিক লোব দুটি চোখের প্রতিবিম্বকে একত্রিত করে বস্তুর গভীরতা, দূরত্ব ও সঠিক আকৃতির নিখুঁত ধারণা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো মানুষের চোখ বা অক্ষিগোলক। নিচে এর লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র ও প্রধান অংশসমূহ উল্লেখ করা হলো:

    [অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদের একটি পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করতে হবে]

    অঙ্কনকৃত চিত্রের প্রধান অংশসমূহ:
    ১. তন্তুময় বহিঃস্তর: স্ক্লেরা এবং স্বচ্ছ কর্নিয়া।
    ২. সংবহনশীল মধ্যস্তর: কোরয়েড, সিলিয়ারি বডি, আইরিশ এবং তারারন্ধ্র বা পিউপিল।
    ৩. সংবেদী অন্তঃস্তর: রেটিনা, ফোভিয়া সেন্ট্রালিস (পীতবিন্দু) এবং অন্ধবিন্দু।
    ৪. প্রতিসারক মাধ্যমসমূহ: কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, দ্বিউত্তল চোখের লেন্স এবং ভিট্রিয়াস হিউমার।
    ৫. অপটিক স্নায়ু: রেটিনার স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত স্নায়ু যা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চোখের রেটিনায় বিদ্যমান বিশেষ কোষ দুটি হলো রড কোষ (Rod cell) এবং কোন কোষ (Cone cell)। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

    ১. গঠন ও আকৃতি: রড কোষগুলো দেখতে লম্বা ও দণ্ডাকার; অপরদিকে কোন কোষগুলো দেখতে খাটো ও শঙ্কু আকৃতির বা কোণাকার।
    ২. সংখ্যা: মানব রেটিনায় রড কোষের সংখ্যা অনেক বেশি (প্রায় ১২ থেকে ১২.৫ কোটি); কিন্তু কোন কোষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ)।
    ৩. রঞ্জক বা পিগমেন্ট: রড কোষে রোডোপসিন (Rhodopsin) নামক সংবেদনশীল রঞ্জক পদার্থ থাকে; কোন কোষে আয়োডোপসিন (Iodopsin) বা ফটোসিন নামক রঞ্জক থাকে।
    ৪. আলোর তীব্রতায় কার্যকারিতা: রড কোষ কম আলোতে বা মৃদু আলোতে দর্শনে উপযোগী (স্তিমিত আলোয় দৃষ্টি বা স্কোটোপিক ভিশন); পক্ষান্তরে কোন কোষ উজ্জ্বল আলোতে দর্শনে সক্ষম (ফটোপিক ভিশন)।
    ৫. বর্ণ দর্শন: রড কোষ কোনো বর্ণ চিনতে পারে না, কেবল সাদা-কালো অনুভূতির সৃষ্টি করে; কিন্তু কোন কোষ বিভিন্ন রঙের পার্থক্য ও উজ্জ্বল বর্ণ শনাক্তকরণে সহায়তা করে।
    ৬. অবস্থান: রেটিনার প্রান্তীয় অঞ্চলে রড কোষের ঘনত্ব বেশি এবং ফোভিয়া সেন্ট্রালিসে এরা অনুপস্থিত থাকে; কিন্তু ফোভিয়া সেন্ট্রালিসে শুধুমাত্র ঘন সন্নিবিষ্ট কোন কোষ অবস্থান করে।

    সুতরাং, মৃদু আলোতে দৃষ্টির জন্য রড কোষ এবং উজ্জ্বল আলোতে তীক্ষ্ণ ও রঙিন দৃষ্টির জন্য কোন কোষ মানব চক্ষুর দর্শনে পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন