ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। সেখানে প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয়। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ গবেষণার ব্যবস্থা করেন। দেশি-বিদেশি বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করছে।
- ক)(1)
বুরান কে ছিলেন?
- খ)(2)
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের কেন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র- উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুরান ছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের স্ত্রী এবং খলিফার উজির হাসান ইবনে সাহলের কন্যা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে খলিফা আল-আমিনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাঁর অযোগ্যতা, বিলাসপ্রিয়তা এবং তাঁর সেনাপতিদের বিশৃঙ্খলা। অন্যদিকে তাঁর ভাই আল-মামুন ছিলেন রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং তাঁর পক্ষে তাহির বিন হুসাইনের মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ সেনাপতি সেনাপতিত্ব করেছিলেন। আমিনের দুর্বল রণকৌশল ও নেতৃত্বের অভাব মামুনের দক্ষ বাহিনীর সামনে পরাজয় ডেকে আনে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসীয় খিলাফতের জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র 'বাইতুল হিকমাহ্' (House of Wisdom)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে 'বাইতুল হিকমাহ্' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল একাধারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, অনুবাদ কেন্দ্র ও গবেষণা ব্যুরো। এখানে বিভিন্ন ভাষা (যেমন: গ্রিক, সুরিয়ানি, ফারসি, সংস্কৃত) থেকে বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হতো এবং বিভিন্ন দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিরা এখানে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।
উদ্দীপকে হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটিতেও বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি পণ্ডিতদের সমাবেশ ঘটে। এই অনুবাদ, পাঠাগার ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাথে আব্বাসীয় যুগের বাইতুল হিকমাহ্-র সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র"—উক্তিটি যথার্থ ও সত্য।
আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ্' ছিল মধ্যযুগের সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের এক বিশাল কেন্দ্র। এটি কেবল একটি সাধারণ পাঠাগার ছিল না, বরং এতে ছিল বিশাল গ্রন্থাগার, সুসংগঠিত অনুবাদ কেন্দ্র, উচ্চতর একাডেমি এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের মানমন্দির (Observatory)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পণ্ডিত ও অনুবাদকেরা এখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনভাবে গবেষণা চালাতেন। এর মাধ্যমে প্রাচীন গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ হয়ে আধুনিক বিশ্বকে প্রভাবিত করেছিল।
অন্যদিকে উদ্দীপকে হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার কর্তৃক ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি অনুবাদ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করলেও তা ছিল বাইতুল হিকমাহ্-এর মতো বহুমুখী, সুদূরপ্রসারী এবং সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ। বাইতুল হিকমাহ্-এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্র বা মানমন্দির এবং সামগ্রিক বিশ্বকোষীয় পরিধি উদ্দীপকের পাঠাগারটিতে অনুপস্থিত।
সুতরাং, ব্যাপকতা, প্রভাব ও কাঠামোর বিবেচনায় উদ্দীপকের পাঠাগারটি বাইতুল হিকমাহ্-এর সম্পূর্ণ রূপ ধারণ করতে পারেনি; বরং এটি কেবল একটি আংশিক রূপ মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও